Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বইমেলা শেষ হতেই ময়লার ভাগাড়ে পরিণত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

এখনও ময়লা আর জঞ্জালের স্তুপ পরিষ্কার না করায় সেখানে ঘুরতে আসা মানুষরা আবর্জনার মধ্যেই বসতে ও চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২২, ০৩:১৪ পিএম

দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম অমর একুশে বইমেলা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ)। ৩১ দিনব্যাপী চলা এ মেলা শেষ হওয়ার ৫ দিন পেরিয়ে গেছে সারা মাঠ ছেঁড়া কাগজ, কাপড়, কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিকের কাপ, শপিং ব্যাগ, পলিথিনসহ অসংখ্য আর্বজনায় সয়লাব হয়ে আছে। এখনও এসব আবর্জনা পরিষ্কার না করার ফলে বইমেলার আয়োজনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণশ্রমিকেরা তখনও বুক স্টলে ব্যবহৃত ইটগুলো সরাতে ব্যস্ত। এখনও ময়লা আর জঞ্জালের স্তুপ পরিষ্কার না করায় সেখানে ঘুরতে আসা মানুষরা আবর্জনার মধ্যেই বসতে ও চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। একইসঙ্গে ছড়িয়ে থাকা ময়লা আবর্জনার পরিমাণ দেখে মেলার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, এখানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন আর বক্স তো ছিল। সেই বক্স থেকে ময়লা মাঠে ফেলে গিয়েছে।

পাশে বসা আরেক দর্শনার্থী বলেন, বক্সে ঠিকই ময়লা ফেলা হয়েছে। কিন্তু বক্সটা নেওয়ার জন্য ময়লা মাঠে ফেলে গিয়েছে।

রুহুল আমিন সাগর নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সবার জন্য উন্মুক্ত একটি জায়গা। এখানে সবাই ঘুরাঘুরির জন্য বা একটু আনন্দ করার জন্য আসে। এখন এখানের পরিবেশ সুন্দর রাখা কিন্তু আমাদের সবার দায়িত্ব। সেই হিসেবে বাংলা একাডেমি যে বইমেলার আয়োজন করলো, তাদের দায়িত্ব হলো যত দ্রুত সম্ভব এখানকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা। এখানে আসা মানুষ যেন দেখে যে একটি সুন্দর পরিবেশে আমরা ঘুরতে এসেছি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি ও প্রকাশনা সংস্থা কোনোপক্ষই ময়লা অপসারণের দায়িত্ব নিতে নারাজ। এমনকি, এ দায়িত্ব কার সে ব্যাপারেও তারা স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেনি।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক খান মাহবুবুল আলম বলেন, মাঠের আবর্জনা সরিয়ে উদ্যানটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বাংলা একাডেমির। এ বছরে কেন তারা এখনও কাজটি করে উঠতে পারেনি সে প্রশ্নের উত্তর তারাই দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নুরুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে মেলা অনুষ্ঠিত হলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর মেলা শুরু হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। ২০২০ সালে ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হলেও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ সালে বই বিক্রি মাত্র ৩.১১ কোটি টাকায় নেমে যায়। ২০২২ সালের একুশে বইমেলায় ৩ হাজার ৪১৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১,০৬০টি কবিতার বই, ৫০১টি উপন্যাস এবং ৪৬৭টি গল্পের বই। প্রকাশিত বইয়ের ২৬% বাংলা একাডেমির বিবেচনায় “মানসম্পন্ন প্রকাশনা” হিসেবে বিবেচিত হয়।

মেলায় একাডেমি ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে, যা গতবারের তুলনায় ১৭% বেশি। প্রাথমিকভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আয়োজকরা ১৭ মার্চ পর্যন্ত মেলা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ বছর বইমেলায় ৭৭৬টি ইউনিট ও ৩৫টি প্যাভিলিয়নসহ ৫৩৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

About

Popular Links