Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কার শাস্তি চাইব, কার কাছে চাইব বিচার?

অভাবে থাকা পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তার উদ্দেশ্যে আগামী মাস থেকে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল নিহত সামিয়া আফনান প্রীতির

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ১২:০৫ পিএম

রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়া  বেগম বদরুন্নেসা সরকারি বালিকা কলেজের ছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতির (২২) পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। সেই সঙ্গে প্রীতির গোটা পরিবার বেদনায় মূর্ছা যাচ্ছে। মেয়েকে হারিয়ে হোসেন আরা বিচারের আশা ছেড়ে শুধুমাত্র মেয়ের লাশটি চান। আর মেয়ের লাশ নিতে হাসপাতালের মর্গে অপেক্ষমাণ প্রীতির বাবা মো. জামাল উদ্দিনের বিচার প্রার্থনার একমাত্র জায়গা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই।

মা হোসনে আরা বলেন, “বিচার কার কাছে চাইবো? বিচার চেয়ে তো কোনও লাভ নেই। আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আর কোনো সমস্যায় পড়তে চাই না। একজনের জন্য আমার মেয়েটির মৃত্যু হলো। বিচার চাই না। শুধু মেয়ের লাশ পৌঁছে দিলেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মেয়ের মৃত্যু এভাবে হবে কখনোই কল্পনা করিনি। এমনিতেই সংসারে অভাব রয়েছে, আর এখন মেয়েকে হারিয়ে সন্তানের অভাবের এই হাহাকার বলে বোঝানো যাবে না।”

অভাবে থাকা পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তার উদ্দেশ্যে আগামী ১ এপ্রিল থেকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সামিয়া আফনান প্রীতির। কিন্তু পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আগেই গুলির আঘাতে না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো এ তরুণীকে।

মেয়ের লাশ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষারত মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের ফ্যামিলি নিম্ন মধ্যবিত্ত। আমার মেয়েটির ১ এপ্রিল একটি চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। ভেবেছিলাম মেয়েটি চাকরিতে যোগ দিলে তার নিজের জন্য কিছু উপার্জন করতে পারবে এবং পরিবারকে কিছু টাকা দিতে পারবে। কিন্তু কিন্তু সেটা আর হলো না। এখন আমরা মেয়েকে হারিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “কার শাস্তি চাইব? বিচার নাই, বিচার কার কাছে চাইব? মেয়ের হত্যার বিচার চাই না। মামলা চালানোর মতো অবস্থাও নেই। আমরা নিরীহ মানুষ। আর কোনো সমস্যায় পড়তে চাই না। কোনো মামলা-মোকদ্দমাও করতে চাই না। বিচার চাইলে আল্লাহর কাছে চাই। তিনিই বিচার করবেন। রাজনীতি না করেও রাজনৈতিক কারণেই মেয়েটি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো।”


আরও পড়ুন- রক্ত দেখে লোকজন বলে, ‘গুলি লাগছে’ 


জামাল উদ্দিন জানান, তারা মেয়ের লাশ ঢাকার শাহজাহানপুর কবরস্থানে দাফন করার কথা ভাবছেন। লাশ পেলে আজকেই দাফন করা হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রীতিদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। সেখানে যাতায়াত কম। বাবার চাকরি সূত্রে তার পরিবার ঢাকায় থাকে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন সামিয়া। অকৃতকার্য হওয়ায় আবার পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

প্রীতির বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, “মিরপুর-২ এ একটি কোম্পানির ফ্যাক্টরির প্রডাকশনে চাকরি করি। বেতন বেশি পাই না। অনেক কষ্টে মেয়ে প্রীতি ও ছেলে সোহায়েব জামাল সামি ও স্ত্রীকে নিয়ে পশ্চিম শান্তিবাগের একটি বাসায় ভাড়ায় থাকি।”

মেয়ে হত্যার বিচার ও মামলা করার প্রসঙ্গে জামাল উদ্দিন বলেন, “মামলা করবো না। মামলা পরিচালনা করার মতো অবস্থা ও সুযোগ আমার নাই। কোনো বিবাদে জড়াতে চাই না। কেউ যদি সহযোগিতা করে সেটা ভিন্ন বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “খিলগাঁওয়ের বান্ধবীর বাসা থেকে আমাদের বাসায় আসছিল সে। পরে ওর আম্মু বলল, তোর মামা চট্টগ্রাম থেকে আসছে, বাসায় থাকার সমস্যা, আজকে তোর আসার দরকার নাই, বান্ধবীর বাসায় থাক। পরে সে তার বান্ধবীর বাসায় ফিরে যাচ্ছিল, তখন এ ঘটনা ঘটে। তখন ওর বান্ধবী সঙ্গেই ছিল।”

জামাল উদ্দিন বলেন, “আমার মেয়ের পিঠের বাঁ পাশে গুলি লেগেছে। তাকে একটা গুলি লাগার ছবি দেখানো হয়েছে। সন্তানের এ রকম মৃত্যু কোনো মা-বাবারই জন্যই কাম্য নয় বলে কাঁদতে থাকেন তিনি।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ)  রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৫) ও সামিয়া আফরান প্রীতি (২০) নিহত হয়েছেন। অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা জাহিদুল ইসলাম টিপুর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে নিহত হন সড়কে যানজটে আটকে থাকা রিকশাযাত্রী প্রীতি।

About

Popular Links