Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর পর বগুড়ায় এবার ‘জলতরঙ্গে বিজয় নিশান’

শনিবার রাতে এই প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। একটি মজা পুকুরকে ১৫ দিনে নান্দনিক রূপ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ০৭:১৭ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মুজিব চত্বরের পুকুরে আলোকসজ্জা করে বৃহৎ আকারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। ১৫ দিনে মজা পুকুর সংস্কার করে জাতীয় পতাকার অবয়ব ফুটিয়ে তোলার কাজটি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই প্রদর্শনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘‘জলতরঙ্গে বিজয় নিশান’’।

শনিবার (২৬ মার্চ) রাতে ‘‘জলতরঙ্গে বিজয় নিশান’’ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর মুজিব চত্বর ভরে যায় শত শত দর্শনার্থীর পদচারণায়। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে।

রাতেই বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিদর্শন শেষে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

‘‘জলতরঙ্গে বিজয় নিশান’’এর দুই উদ্যোক্তা ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও পৌর মেয়র এজিএম বাদশাহ্ জানান, ১৫ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে পুকুরের ওপরে সুতার সঙ্গে ৯২ হাজার ৩৪০টি লাল-সবুজ মরিচ বাতি বেঁধে জাতীয় পতাকার অবয়ব ফুটে তোলা হয়েছে। পতাকাটি দৈর্ঘ্যে ১৬০ ফুট ও প্রস্থে ৯৬ ফুট সবুজ মরিচ বাতি এবং ৩২ ফুট বৃত্তে লাল মরিচ বাতি লাগানো হয়। পতাকার চার পাশ অর্থাৎ পুকুরের চার কোণে এবং উপরে সরকারের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। বসানো হয়েছে মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ফ্লাইওভারের প্রতিকৃতি।


আরও পড়ুন- গিনেস রেকর্ডসে স্থান পেল বঙ্গবন্ধুর ‘শস্যচিত্র’


পুকুরে মাঝ বরাবর উপর দিকে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। জনগণ যেন পুকুরের কাছে এসে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে পারে সে জন্য পশ্চিম প্রান্তে বড় ছবির পাশে ইংরেজিতে ‘‘আই লাভ বঙ্গবন্ধু’’ এবং পূর্ব প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির পাশে ‘‘দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি’’ লেখা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ পাশে বসানো হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের নৌকা। নৌকার পূর্ব পাশে বঙ্গবন্ধু এবং পশ্চিম পাশে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।

‘‘জলতরঙ্গে বিজয় নিশান’’ দেখতে আসা ধুনটের গোসাইবাড়ির চিতুলিয়া গ্রামের আমজাদ ফকির জানান, গত কয়েকদিনে মজাপুকুর খনন ও সংস্কার করে উপজেলা প্রশাসন মরিচ বাতির মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ফুটে তুলেছে। যা প্রশংসার দাবিদার। আমরা ভাবতেও পারিনি এত সুন্দর কিছু হচ্ছে। রাতে বাতি জ্বলার পর আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন, ধুনটের মাস্টারপাড়ার আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, মরিচ বাতি দিয়ে এত সুন্দর ও বড় জাতীয় পতাকা তৈরি হবে বা কখনও ভাবতে পারিনি।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, প্রতি বছর স্বাধীনতা, বিজয়সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি এবার গুগল সার্চ করে নতুন কিছু করার চিন্তা করেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় পতাকাকে আলাদাভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় গত ১৫ দিনের চেষ্টায় মুজিব চত্বরের মজাপুকুর সংস্কার করে সেখানে মরিচ বাতির আলো দিয়ে পতাকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে কোনো খুঁত রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, কোন পুরস্কার বা কাউকে খুশি করার জন্য এ কাজ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও দেশ মাতৃকার টানেই এ উদ্যোগ।

বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক মহৎ এ কাজের জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এটি ইন্সটলেশন আর্টের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।

বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান জানান, তিনি এ কাজে বিস্মিত হয়েছেন। বগুড়ার শেরপুরে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু যেমন সারাপৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল; তেমনি ‘‘জলতরঙ্গে বিজয় নিশান’’ও আলোচনায় স্থান লাভ করবে।

এর আগে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পায়।

About

Popular Links