Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সংসদে কৃষি জমি সংরক্ষণ বিল প্রস্তাব

দেশের কৃষি জমির যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে একটি নতুন আইনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে সংসদে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২২, ০৪:৪৮ পিএম

দেশের কৃষি জমির যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে একটি নতুন আইনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে সংসদে। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বেসরকারি এই বিল সংসদে উত্থাপন করেন। 

“কৃষি জমি (যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ) বিল-২০২২” নামের বিলটি সংসদে তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠান।

মন্ত্রী ছাড়া অন্যান্য সংসদ সদস্যদের বেসরকারি সদস্য বলা হয়। সংসদে বৃহস্পতিবারকে বেসরকারি সদস্য দিবস বলায় এদিনই বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সংসদে ওঠে। তবে মহামারির কারণে সাম্প্রতিক অধিবেশনগুলোতে বেসরকারি সদস্য দিবসের কার্যক্রমও অন্য সাধারণ দিনের মতই চলছিল।

নবম সংসদে বেসরকারি সদস্যদের উত্থাপিত ১৪টি বিলের মধ্যে ৩টি বিল পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ছিলো সাবের হোসেন চৌধুরীর “দ্য লেপার্স (রহিতকরণ) বিল-২০১০” এবং জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর “পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল-২০১৩” এবং “নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন- ২০১৩”। আরও বেশ কিছু বিল উঠলেও তা পাস হয়নি।

কৃষি জমি (যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ) বিলে বলা হয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশের কোনো কৃষি জমি কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না বা অন্য কোনো কাজের জন্য ভাড়া বা ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগত বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ, কবরস্থান, শ্মশান, অন্যান্য ধর্মীয় সৎকারের স্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

প্রস্তাবিত আইনে কৃষি জমির যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য তদারক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া উপজেলার কৃষি, ভূমি, মৎস্য, শিক্ষা, পরিসংখ্যান, সমবায়, যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর সদস্য হবেন।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এ আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তিন বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কেউ কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা, রাস্তা, আবাসন বা অন্য স্থাপনা নির্মাণ করলে তদারক কমিটি নোটিস দিয়ে স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেবে।

অন্য আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না বলেও প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে আবাদি জমির পরিমাণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নারায়ণসহ নানা কারণে কমছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে দেশের মোট জমির ৬৫%-এর বেশি ছিল কৃষি জমি। চার দশকের ব্যবধানে ২০১৯ সালে তা নেমে ৫৯%-এ এসেছে।


About

Popular Links