Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৪২তম বিসিএসের দুই সহকারী সার্জন ৪০-এর শীর্ষে

ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় অধ্যবসায় থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে জানান দুজনেই

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ০৭:১১ পিএম

৪০তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ)।

এ বছর স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ডা. শাহ মুবদি-উন নাফি। তিনি উপজেলার ধাপেরহাট গ্রামের চিকিৎসক মাহফুজুর রহমানের ছেলে।

কঠোর সাধনা, ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় অধ্যবসায় থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ক্যাডারে দ্বিতীয় হয়েছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের কুতুববাস গ্রামের ডা. মালিহা সামিহা শশী। 

উভয়েই এর আগে ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত। ডা. নাফির কর্মস্থল রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং ডা. শশী পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

ডা. নাফির বাবা মাহফুজুর রহমান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেধাবী নাফির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সে কারণে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়ায় আবারও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরিতে যোগদান করে। বর্তমানে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জেন হিসেবে কর্মরত। তবে বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন তার অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দেবে। আমরা চাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে নাফি দেশের মানুষের চিকিৎসা সেবা দিক।”

ডা. নাফির এমন সাফল্যে তার সহকর্মীরাও দারুণ খুশি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান টিএইচও ডা. আশিক ফেরদৌস বলেন, “অত্যন্ত মেধাবী, সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ একজন চিকিৎসক ডা. নাফি। তার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”

ঢাকার সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নেন নাফি।

অন্যদিকে, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে স্বাস্থ্য ক্যাডারে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ডা. মালিহা সামিহা শশী ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তার বাবা বাংলাদেশ রেলওয়ে ডেপুটি ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার অ্যান্ড চিফ অ্যাকাউন্ট অফিসার সাইফুল ইসলাম, মা নাসিমা আখতার একটি বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা।

ডা. শশী জানান, ৪০তম বিসিএসের ফলাফল ঘোষণা না করায় ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন তিনি। দেড় মাস ধরে কাজ করছেন পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে।

এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শশী বলেন, বাবা-মার দোয়া ও উৎসাহ এবং স্বামীর অনুপ্রেরণার কারণেই এই ফলাফল। 

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এসএসসি ও ২০১২ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন ডা. শশী। এরপর চিকিৎসাবিদ্যায় পড়তে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে।

এই চিকিৎসকের স্বামী মাহে আলমও একজন চিকিৎসক। তিনি কাজ করেন ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ডা. শশী জানান, তিনি ভবিষ্যতে গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চান।

About

Popular Links