Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফরিদপুরে আবার চার গ্রামের সংঘর্ষ

দ্বিতীয় দিনের এ সংঘর্ষে ২৫টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১০:২৯ পিএম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিবাদমান দুই পক্ষের নেতৃত্বে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শুক্রবারও (১ এপ্রিল) অব্যাহত ছিল। টানা দ্বিতীয় দিনের এ সংঘর্ষে ২৫টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত মানিকদহ ইউনিয়নের খাকান্দা, নাজিরপুর ও ব্রাহ্মকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

পরে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে দুদিনের ঘটনায় শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ওই এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মানিকদহ ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য পুখড়িয়া গ্রামের করিম মাতুব্বর ব্রাহ্মনকান্দা গ্রামের ইয়াকুব আলী মিয়া একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন পুখরিয়ার তুহিন খা ও খাকান্দা গ্রামের কালাম মোল্লা। 

খাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা পলি আক্তার জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শুরু হয়। খাকান্দা ও নাজিরপুর গ্রামের শাহজাহান সর্দার, মজিবর তালুকদার, হায়দার তালুকদার, রোকন তালুকদার, রবি মৃধা, মিলন সর্দার ও ব্রাহ্মনকান্দা গ্রামের হায়দার মোল্লা ও সরো শেখের বাড়িসহ অন্তত ২৫টি বাড়িতে এ তাণ্ডব চালানো হয়।


আরও পড়ুন- ফরিদপুরে এবার চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ


সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন সর্দারের বলেন, “বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর পুলিশ আমাদের আর কোনো সমস্যা না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে তাণ্ডব শুরু হয়। যেভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে তাতে দুপুরে ভাত রান্না করার জন্য বাড়িতে এক মুঠ চাল আর চুলায় রান্না চড়ানোর মতো কোনো হাঁড়ি নেই।”

প্রসঙ্গত, এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চার গ্রামবাসীর মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সহস্রাধিক মানুষ ঢাল,সড়কি, বল্লম,টেটা ও ইট নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৩টি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছে ২৫জন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী জানায়, এ দুই পক্ষের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে এর আগে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘরে ঘরে তল্লাশি করে অস্ত্রও উদ্ধার করেছে। বিবাদ নিরসনে পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান শান্তি সমাবেশও করেছেন। কিন্তু কয়েকদিন বন্ধ থাকার পরপর আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বিবাদমান দুই পক্ষই ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের বর্তমান  স্বতন্ত্র দলীয় সাংসদ মজিবুর রহমান নিক্সনের সমর্থক। গত ২১ মার্চ সাংসদ নিক্সন ভাঙ্গার কাউলিবেড়া এলাকায় এক জনসভা করেন। ওই সভায় যোগ দেন এই দুই পক্ষের লোকজন।

সভা থেকে ফেরার পথে তুহিন খার সমর্থক ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আতিকর কাজীকে পুখুরিয়া রেল স্টেশন এলাকায় কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি পুলিশ ওই মামলার আসামি হিসেবে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এর জের ধরেই বৃহস্পতিবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবারেও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকার প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ফাহিমা কাদের চৌধুরী বলেন, “সংঘর্ষের খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এ সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।”

About

Popular Links