Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিপ পরায় শিক্ষিকাকে পুলিশের হেনস্থা, প্রতিবাদের ঝড়

শনিবার সকালে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে পায়ে হেঁটে তিনি তার বাসা থেকে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। সেজান পয়েন্টের দিকে শুনতে পান, ‘টিপ পড়ছোস কেন’ বলে একটা গালি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ১০:৩০ এএম

টিপ পরার কারণে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি হেনস্তা ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি শনিবার (২ এপ্রিল) শেরেবাংলা নগর থানায় এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লতা সমাদ্দার অভিযোগ করেছেন, শনিবার সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তি তাকে “টিপ পরছোস কেন” বলে কটূক্তি করেন। তিনি তখন প্রতিবাদ জানালে গায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্য।

কি ঘটেছিল ?

এ বিষয়ে লতা সমাদ্দার বিবিসি বাংলাকে জানান, শনিবার সকালে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে পায়ে হেঁটে তিনি তার বাসা থেকে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। সেজান পয়েন্টের দিকে তিনি শুনতে পান, “টিপ পড়ছোস কেন” বলে একটা গালি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লতা সমাদ্দার বলেন, “আমি ঠিক পেছনে তাকিয়ে দেখি, একজন পুলিশ একটা বাইকের ওপর বসে আছে। আমি তার প্রতিবাদ করলে সে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে সে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আমার শরীরের ওপর চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি সটকে যাই, কিন্তু তার বাইরের চাপা আমার পায়ে লাগে। আমার পা ইনজ্যুরড (আহত)।”

ওই সময় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের কাছে গিয়ে বিস্তারিত খুলে বলেন তিনি। তারা মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা পারেনি। পরে তিনি কলেজে গিয়ে ভাইস প্রিন্সিপালকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। এরপর তিনি সহকর্মীদের সহায়তায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

লতা সমাদ্দার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমি কোন দেশে বাস করছি? নারীদের নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী টিপ পরবে, সেজন্য তার গালিগালাজ শুনতে হবে!”

তিনি বলেন, “আমি আমার স্বামীর সঙ্গেও যে ভাষা হয়তো শেয়ার করতে পারবো না। সাধারণ মানুষ নয়, কিন্তু পুলিশের পোশাক পরা একজন লোক যখন এইভাবে আমাকে আক্রমণ করলো, আমার আর কোনো ভাষা ছিল না। আমি এর বিচার চাই। আমি চাই প্রত্যেক নারী তার স্বাধীনতা নিয়ে, স্বতন্ত্রতা চলুক।”

শনাক্ত করা যায়নি মোটরসাইকেলটি

এদিকে এখনও মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা যায়নি বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন শেরে-বাংলা নগর থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া। তিনি বলেছেন, গাড়ির লাইসেন্স নাম্বারের কয়েকটি ডিজিট বলতে পেরেছিলেন লতা সমাদ্দার, কিন্তু তা থেকে গাড়িটি শনাক্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, “আমরা এখন বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে যাচাই-বাছাই করছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নজরদারি করছেন। তদন্তের আলোকে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।”

উৎপল বড়ুয়া জানান, সেদিন ওই এলাকায় যাদের ডিউটি ছিল, তাদের সবাইকে যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই ব্যক্তির সেখানে কোনো ডিউটি ছিল না। তিনি হয়তো ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “তবে তাকে শনাক্ত করা কোনো কঠিন বিষয় হবে না, আমরা খুঁজে বের করবো।”

পুলিশ কী বলছে

এদিকে পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফৌজদারি এবং বিভাগীয় দুই ধরণের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়ে থাকে। ফৌজদারি ব্যবস্থা হলে আইনের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেটা বাদী নিজে করতে পারে বা পুলিশও করতে পারে।

অন্যদিকে বিভাগীয় ব্যবস্থা ক্লোজ করা, তদন্ত কার্যক্রম করা, সাময়িক বা স্থায়ী বরখাস্ত হতে পারে। কোনো কোনো ঘটনায় একই সঙ্গে উভয় ধরনের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া

এদিকে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। অনেকেই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের টিপ পরা ছবি পোস্ট করা শুরু করেছেন।

ফারাহ জেবিন শাম্মী নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, “কোনো দিন নামাজ পড়েন না, জীবনে কোনো দিন মসজিদেও যান না। স্মার্ট লাইফ লিড করেন, মদ, ঘুষ সবই খান কিন্তু হিজাব নিকাবের বাড়াবাড়ির কথা আসলে তারাও পোশাকের স্বাধীনতা এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা বলে তাদের পক্ষ নেন। আর তারা হয়ত জানেন না আজকাল রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন জায়গায় হিজাব না পরা, টিপ পরা নারীদের নানা কটূক্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় গালিগালাজ।”

টিপ পরা একটি মেয়ের ছবি শেয়ার করে ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “এদেশ যতদিন না হবে আফগানিস্তান। টিপ হবে বাঙালি নারীর একান্ত-পরিধান।”

সাবিনা ইয়াসমিন মাধবী নিজের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, “একজন নারীকে রাস্তায় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আমি নিজেও হই। তাই বলে পুলিশের পোশাক পরা একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে নারীকে হয়রানি? এতো বড় দুঃসাহস? আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”


About

Popular Links