Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সংসদে সুবর্ণা মুস্তাফা: কোন আইনে লেখা আছে টিপ পরা যাবে না

সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘বাংলাদেশের কোন সংবিধানে, কোন আইনে লেখা আছে একজন নারী টিপ পরতে পারবে না? এখানে সেই নারীটি হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা সে বিবাহিত না বিধবা তা বিষয় নয়’

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ১১:০৪ এএম

সম্প্রতি রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কপালে টিপ পরায় তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষিকাকে গালিগালাজসহ হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি সংসদেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন সাংসদরা।

রবিবার (৩ এপ্রিল) সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা এ দাবি উত্থাপন করেন।

সুবর্ণা মুস্তাফা অধিবেশনে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে এবং নারী সমাজের জন্য এটি অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ঘটনা। আমরা এতদিন শুনে এসেছি বখাটে ছেলেরা স্কুলে পড়ুয়া মেয়েদের টিজ করে। কিন্তু এখন যখন দেশের আইনরক্ষাকারী বাহিনীর কেউ ইভটিজিংয়ে ভূমিকায়, তখন বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

এ সময় সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, “বাংলাদেশের কোন সংবিধানে, কোন আইনে লেখা আছে একজন নারী টিপ পরতে পারবে না? এখানে সেই নারীটি হিন্দু-মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা সে বিবাহিত না বিধবা তা বিষয় নয়। একটি মেয়ে টিপ পরেছে। তিনি একজন শিক্ষক। রিকশা থেকে নামার পর দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার তাকে টিজ করেছে। আর ওই শিক্ষক যখন এর প্রতিবাদ করেছে তখন তার সঙ্গে তুই-তোকারি করা হয়েছে। তাকে অসম্মান করা হয়েছে।”


আরও পড়ুন- ‘টিপ পরছোস ক্যান’ বলে মাঝরাস্তায় শিক্ষিকার ওপর চড়াও পুলিশ



সংরক্ষিত নারী আসনের এই সদস্য বলেন, “আমি সরকারি দলের প্রতিনিধিত্ব করি নাকি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করি বিষয়টা এসবের ঊর্ধ্বে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন, মানুষ আগে। মানুষের অধিকার আগে। জাতির পিতা সবসময় বলেছেন, মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের অধিকার আগে। তাই যে মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি দেখা-শোনা করছেন তারা যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় টিপ।পরার কারণে এক পুলিশ সদস্যের দ্বারা হেনস্থার শিকার হন তেজগাঁও কলেজের কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের প্রভাষক লতা সমাদ্দার।

লতা জানান, হঠাৎ করেই পেছন থেকে কেউ একজন “টিপ পরছোস কেন” বলে উঠলে থেমে যান তিনি। তাকিয়ে দেখেন পুলিশের পোশাক পরা মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা এক লোক একটি মোটরসাইকেলের ওপর বসে তাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছে। এ কথা বলার পরই লোকটা গালিগালাজ শুরু করেন যা মুখে আনাও সম্ভব নয়।

পরে, তিনি প্রতিবাদ করলে লোকটা তার পায়ের ওপর দিয়েই মোটরসাইকেল চালিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। লতা দ্রুত সরে গিয়ে নিজেকে বাঁচালেও রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হন।


About

Popular Links