Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফরিদপুরে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক শিশুকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০২:১৭ পিএম

আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ফরিদপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ফলশ্রুতিতে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড়ও। 

ফরিদপুরের শিশু চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। তাই ডায়রিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচতে শিশুদের বাসি-পচা খাবার দূরে রাখার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পান এবং সবসময় পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান। 

ফরিদপুর সদর হাসপাতলে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য মাত্র ১০টি শয্যা থাকলেও সেখানে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্টরা সেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্যতম শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ড. জাহেদ মেনোরিয়াল শিশু হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক শিশু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


আরও পড়ুন- আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়া, তাঁবু টানিয়ে চলছে চিকিৎসা



এছাড়া, ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে আরও প্রায় ২০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

জেলার সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এর প্রভাব পড়ছে। তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কোথাও কোথাও সেবা দিতে কষ্টকর হয়ে পড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

ফরিদপুর সদর হাসপাতলের সিনিয়র নার্স ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে প্রতিদিনই শিশু রোগী আসছে। শিশুদের পাতলা পায়খানা ও বমি হচ্ছে।”

মাদারীপুরের দিনমজুর আক্তার শেখের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার দুই শিশুর বমি ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে। প্রথমে শিশু দুটিকে মাদারীপুর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুরে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। উপায়ন্তর না পেয়ে শনিবার (২ এপ্রিল) ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি হলেও রোগীর চাপে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তবে তার দুই সন্তানই এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছে।


আরও পড়ুন-  রাজশাহীতে বাড়ছে ডায়রিয়া, বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা



ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এমদাদুল হক সামীম বলেন, “ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুরা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তবে এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।”

ফরিদপুর সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দল্লাহ হিস সায়াদ বলেন, “শিশুরা যখন তখন যা খুশি ধরে, মুখে দেয়। তাই তাদের সাবধানে রাখতে হবে। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর হাত ধুতে হবে। এ প্রকোপ থেকে বাঁচতে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।”

About

Popular Links