Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফরিদপুরে ‘ঢাল’ ফেরত না দেওয়ায় রাতভর সংঘর্ষ, আহত ২৫

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের গুলি ছুড়ে ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে ওই এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ১১:০৯ পিএম

ফরিদপুরের সালথায় দেশীয় অস্ত্র ‘‘ঢাল’’ ফেরত না দেওয়ায় এক ব্যক্তির ইজিবাইক আটকে রাখে প্রতিপক্ষ। পরে এ নিয়ে রাতভর চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকান। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রবিবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মাদ্রাসা মোড় এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ পরে কানাইড়, চালতা তলা ব্রিজ ও ঝুঁনাখালী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে ওই এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে গট্টি ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ শুরু হয়। বিরোধের জেরে ইউনিয়নের মাদ্রাসা গট্টি, বালিয়া গট্টি ও কানাইড় গ্রামে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিয়নের পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়দিন আগে কানাইড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুছ মাতুব্বরের সমর্থক রেজাউল মাতুব্বর বর্তমান ইউপি সদস্য পারভেজ মাতুব্বরের দলে যোগ দেন। রেজাউলের কাছে কুদ্দুছ মাতুব্বরের তিনটি ঢাল (দেশীয় অস্ত্র) ছিল। সেগুলো ফেরত না দেওয়ায় ২-৩ দিন ধরে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় কুদ্দুছ মাতুব্বরের দলনেতা নুরু মাতুব্বরর ও তার সমর্থকরা মাদ্রাসা গট্টি মোড় থেকে রেজাউলের ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক রেখে দেয়। তারা রেজাউলকে ঢাল ফেরত দিয়ে ইজিবাইক নিয়ে যেতে বলে। পরে পুলিশ গিয়ে ইজিবাইক উদ্ধার করে রেজাউলকে ফেরত দেয়।

তারপরেও কানাইড় ও মাদ্রাসা গট্টির উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ১০টা থেকে শুরু করে রাত ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এ সংঘর্ষ। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৭-৮টি বাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুর-লুটপাট চালানো হয়। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে উভয়পক্ষের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশিকুজ্জামান বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকদফা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের ২৫ রাউন্ড গুলি ও ৩টি টিয়ারশেল এবং একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

About

Popular Links