Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিপের আগুনে ঘি ঢেলে পুলিশ পরিদর্শক বললেন, ‘আমি নারীবিদ্বেষী নই’

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিদর্শক লিয়াকত পোস্ট সরিয়ে (ডিলিট) দিয়েছেন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১১:৪১ এএম


টিপ পরা নিয়ে তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষিকাকে হেনস্তার ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে তুমুল প্রতিবাদ। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন-অফলাইন সর্বত্র সোচ্চার সচেতন সমাজ। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাটি। এরই মধ্যে “টিপ” ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন সিলেটের এক পুলিশ পরিদর্শক।

সোমবার (৪ এপ্রিল) ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করেন সিলেট সদর কোর্ট পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী।

পোস্টটি শেয়ার করার কিছুক্ষণের আলোচনা-সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিদর্শক লিয়াকত পোস্ট সরিয়ে (ডিলিট) দিয়েছেন।

এ ঘটনায় বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।

যা বললেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা

সোমবার রাত ১০টায় ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের সঙ্গে সিলেট সদর কোর্ট পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ “পজিটিভ” দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পোস্টটি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “টিপ মেয়েরা পরে। আমার ওয়াইফও পরে।”

কিন্তু টিপ ইস্যুতে পুরুষরা নারীর “লেবাস পরে” প্রতিবাদ জানানোর কারণেই ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন।

লিয়াকত বলেন, “পোস্ট ভাইরাল করা আমার মূল মোটিভ ছিল না। আমি নারীবিদ্বেষী কর্মকর্তাও নই।”

তার পোস্ট নিয়ে বিভিন্নজনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সেটি ডিলিট করে দিয়েছেন বলে জানান।

তিন মাস আগে সিলেট সদর আদালতে যোগদান করেন পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এর আগে তিনি কয়েক মাস সুনামগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি মূলত চট্টগ্রাম বেল্টের কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশের মুখপাত্র (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. লুৎফুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

ওই কর্মকর্তা এরই মধ্যে স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বাহিনীর সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

২ এপ্রিল সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি “টিপ পরছোস কেন” বলে কটূক্তি করেন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে। প্রতিবাদ জানালে লতার পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্য।

এ ঘটনায় ওইদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ওই শিক্ষিকা।

বিষয়টি নিয়ে প্রথমে সরব হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পরে ধীরে ধীরে দেশব্যাপী ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। বিষয়টি নিয়ে সংসদে কথা বলেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী-সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফা। পরে প্রতিবাদে শামিল হন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, অভিনয়শিল্পী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, সাজু খাদেমসহ আরও অনেকে।

৪ এপ্রিল বিকেলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম নাজমুল তারেক। তিনি একজন কনস্টেবল। ওই শিক্ষিকার সঙ্গে “বাগ্বিতণ্ডায়” লিপ্ত হওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করায় নাজমুলকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

About

Popular Links