Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সঙ্গীতপ্রেমী’ থেকে হঠাৎই কট্টর হয়ে ওঠেন টিপ-বিদ্বেষী সেই কনস্টেবল

গত বছর হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি লম্বা দাড়ি রাখার অনুমতি চান। তিনি ব্যবহার করেন না স্মার্টফোন, দেখেন না টেলিভিশন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১২:০৬ পিএম

টিপ পরায় শিক্ষিকাকে হেনস্তাকারী পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সহকর্মীরা জানান, হঠাৎ করেই ধর্মে-কর্মে মগ্ন হয়ে পড়েন নাজমুল।

নাজমুলের সহকর্মীদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই নাজমুল এক সময় গান-বাজনায় মশগুল থাকতেন। গত বছর হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি লম্বা দাড়ি রাখার অনুমতি চান।

তখন থেকেই তার মধ্যে কট্টর মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।

১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া নাজমুলের পড়াশোনা যশোরে। ২০১১ সালে তিনি কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগদান করেন। গত আট মাস ধরে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সুরক্ষা বিভাগে কর্মরত।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডেপুটি কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, শিক্ষিকাকে হেনস্তার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে সোমবার নাজমুল তারেককে হেফাজতে নেয় ডিএমপি।

শনিবারের (২ এপ্রিল) ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল জানান, তার কর্মকাণ্ডে দেশজুড়ে ওঠা প্রতিবাদের ঝড়ের কিছুই টের পাননি তিনি। কারণ হিসেবে বাটন মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং টেলিভিশন না দেখার কথা জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই সদস্য।

শিক্ষিকাকে হেনস্তার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে রবিবার অভিনেত্রী-সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফা সংসদে বলেন. “বাংলাদেশের সংবিধানে কোন অংশে লেখা আছে যে একজন নারী টিপ পরতে পারবে না?”


আরও পড়ুন- টিপ পরে প্রতিবাদ করে আক্রমণের শিকার সাজু



অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করে তিনি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এছাড়াও পুলিশ সদস্যকে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে ব্যক্তিপর্যায়ের পাশাপাশি প্রতিবাদে শামিল হয় বিভিন্ন সংগঠন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও কপালে টিপ পরে সংহতি প্রকাশ করেন প্রতিবাদে। এ ঘটনায় সরকারের কাছে বিচারের জোর দাবি তোলেন তারা।

সেদিন যা ঘটেছিল

২ এপ্রিল কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার। হঠাৎ করেই পেছেন থেকে কেউ একজন “টিপ পরছোস কেন” বলে উঠলে থেমে যান তিনি। তাকিয়ে দেখেন পুলিশের পোশাক পরা মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা এক লোক একটি মোটরসাইকেলের ওপর বসে তাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছে।

“এ কথা বলার পরই লোকটা গালিগালাজ শুরু করেন যা মুখে আনাও সম্ভব নয়”, বলেন লতা।

লতার অভিযোগ, “প্রতিবাদ করলে লোকটা তার পায়ের ওপর দিয়েই মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যায়। তিনি দ্রুত সরে গিয়ে নিজেকে বাঁচালেও রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হন।”

তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের প্রভাষক লতা ওই মোটরসাইকেলের নম্বর টুকে রাখেন।

ঘটনার পর তিনি কাছেই দায়িত্বরত তিন পুলিশ সদস্যের সহায়তা চাইলে তারা লতাকে শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ জানাতে বলেন। সে অনুযায়ী ভুক্তভোগী নারী মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট উল্লেখ করে অভিযোগ করেন।

এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। সোমবার নাজমুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ডিএমপি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

About

Popular Links