Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিপ নিয়ে স্ট্যাটাস: সেই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

কপালে টিপ পরে ফেসবুকে পুরুষদের প্রতিবাদ করা নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১২:২৯ পিএম

কপালে টিপ পরে ফেসবুকে পুরুষদের প্রতিবাদ করা নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের মুখপাত্র (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. লুৎফুর রহমান।

সোমবার (৪ এপ্রিল) রাতে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মো. লুৎফর রহমান।

তিনি জানান, সোমবার হরিপুরের সংঘর্ষ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। রাতে তিনি বিষয়টি অবগত হয়ে তাকে ক্লোজড করার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে পুলিশ কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান জানান, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোমবার রাত ১০টায় ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের সঙ্গে সিলেট সদর কোর্ট পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ “পজিটিভ” দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পোস্টটি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “টিপ মেয়েরা পরে। আমার ওয়াইফও পরে।” কিন্তু টিপ ইস্যুতে পুরুষরা নারীর “লেবাস পরে” প্রতিবাদ জানানোর কারণেই ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন।

লিয়াকত বলেন, “পোস্ট ভাইরাল করা আমার মূল মোটিভ ছিল না। আমি নারীবিদ্বেষী কর্মকর্তাও নই।” তার পোস্ট নিয়ে বিভিন্নজনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সেটি ডিলিট করে দিয়েছেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি “টিপ পরছোস কেন” বলে কটূক্তি করেন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে। প্রতিবাদ জানালে লতার পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্য।

এ ঘটনায় ওইদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ওই শিক্ষিকা।

বিষয়টি নিয়ে প্রথমে সরব হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পরে ধীরে ধীরে দেশব্যাপী ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। বিষয়টি নিয়ে সংসদে কথা বলেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী-সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফা। পরে প্রতিবাদে শামিল হন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, অভিনয়শিল্পী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, সাজু খাদেমসহ আরও অনেকে।

৪ এপ্রিল বিকেলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম নাজমুল তারেক। তিনি একজন কনস্টেবল। ওই শিক্ষিকার সঙ্গে “বাগ্বিতণ্ডায়” লিপ্ত হওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করায় নাজমুলকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সিলেটের পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সোমবার তার ফেসবুকে লেখেন- “প্রসঙ্গ: টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানি। ফালতু ভাবনা: (18+) টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানি করার প্রতিবাদে অনেক পুরুষ নিজেরাই কপালে টিপ লাগাইয়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু আমি ভবিষ্যৎ ভাবনায় শঙ্কিত।”

বিভিন্ন শহরে অনেক নারী “খোলামেলা পোশাক পরে” চলাফেরা করেন মন্তব্য করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, “ওইভাবে” বক্ষবন্ধনী পরার কারণে কোনো নারীকে হয়রানি করা হলে “আজকে কপালে টিপ লাগানো প্রতিবাদকারী” পুরুষরা একইভাবে “ব্রা পরে” প্রতিবাদ করবেন কি না। 

তার ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ঝড় ওঠে। পরে সন্ধ্যায় লিয়াকত আলী নিজের ফেইসবুক ওয়াল থেকে পোস্টটি মুছে দেন।

About

Popular Links