Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ভোগান্তির শেষ কোথায়

এ নৌরুটে রয়েছে ফেরিস্বল্পতা, নাব্য সংকট, দালাল চক্রের তৎপরতা, টার্মিনাল ব্যবহার না করা এবং বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৩:১০ পিএম

প্রমত্তা পদ্মা দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই কোথাও কোথাও নাব্য হারিয়ে সংকটে পড়ে এ নদী। ফলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটের মাত্র তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনও দিনের পর দিন।

দেশের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট যেন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের কাছে ভোগান্তির আরেক নাম। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়, জানেন না কেউ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রয়েছে ২৩টি ফেরি। এর মধ্যে সচল ১৬ থেকে ১৮টি। এসব ফেরিতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ হাজার গাড়ি পারাপার হয়।

এছাড়া শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি বন্ধের পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে গাড়ি চাপ বেড়েছে অনেক। আগে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি পারাপার হতো। গাড়ির চাপ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকলেও বাড়েনি ঘাটের সংখ্যা। রয়েছে ফেরিস্বল্পতা, নাব্য সংকট, দালাল চক্রের তৎপরতা, টার্মিনাল ব্যবহার না করা এবং বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়হীনতার অভিযোগ।

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পদ্মা সেতুর পিলারের সঙ্গে কয়েকবার ফেরির ধাক্কার জেরে গত বছরের আগস্টে সেতু কর্তৃপক্ষ ওই রুট দিয়ে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে ওই রুটের সব গাড়ি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট ব্যবহার করতে শুরু করে। এই রুটে গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার গাড়ি বেড়েছে।

যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৩টি ফেরি থাকলেও সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, ফেরি সচল রয়েছে ১৭টি।

ফেরি সমস্যার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ডকইয়ার্ডে পাঠানো ফেরির মধ্যে ৫ এপ্রিল একটি, ১৫ থেকে ১৭ এপ্রিল দুটি রো রো (বড়) আসার কথা রয়েছে। ঈদের আগে তিন-চারটি বড় ফেরি এলে সংকট থাকবে বলে মনে হয় না।”

সূত্র বলছে, দৌলতদিয়ায় সাতটি ও পাটুরিয়ায় পাঁচটি ফেরিঘাট রয়েছে। দৌলতদিয়ার সাতটির মধ্যে চারটি এবং পাটুরিয়ায় পাঁচটির মধ্যে চারটি ঘাট সচল রয়েছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে নদীভাঙনে দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ঘাট বিলীন হয়ে যায়। পরের বছর বিআইডব্লিউটিএ সংস্কার করে পন্টুন স্থাপন করে। প্রায় আট মাস ধরে ঘাটের বেসিনে পানি কম থাকায় ৬ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। ফেরি থেকে পণ্যবাহী গাড়ি নামার সময় র‌্যামের মাঝবরাবর ভেঙে যাওয়ায় জানুয়ারি থেকে ২ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। ভাঙা পন্টুনটি মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি।

ঘাট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, “আপাতত নতুন করে ঘাট তৈরির সুযোগ নেই। নদীর পানি বাড়লে বন্ধ থাকা ৬ নম্বর ঘাট হাইওয়াটার লেভেলে পন্টুন বসানো হলে ঘাটের সংখ্যা বেড়ে যাবে।”

এর মধ্যে আরও একটি সমস্যা বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি হলো নাব্য সংকট। এ কারণে দৌলতদিয়ার ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটের বেসিনে পানি কমে পন্টুন থেকে সড়ক খাড়া হওয়ায় লোড-আনলোডে দ্বিগুণ সময় লাগছে। ঘাটের সামনে ডুবোচর জেগে ওঠায় প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে সতর্কতার সঙ্গে ফেরি চলাচল করছে। সময়ও লাগছে বেশি। নাব্য ফিরিয়ে আনতে বিআইডব্লিউটিএ কয়েক দিন ধরে ড্রেজিং শুরু করেছে।


আরও পড়ুন



এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর উপসহারী প্রকৌশলী (খনন বিভাগ) আক্কাছ মোল্লা বলেন, “নাব্য কমে ডুবোচর জেগে ওঠায় অনেকটা পথ ঘুরে বড় ও ডাম্প ফেরিকে চলতে হয়। নৌপথের দূরত্ব কমাতে গত ৮ মার্চ থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুটি ড্রেজার দিয়ে খনন করা হচ্ছে।”

বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া ঘাটে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে শত শত গাড়ি আটকে থাকছে। টার্মিনাল দুটিতে পাঁচ শতাধিক গাড়ি রাখা যায়। বড় টার্মিনালে কিছু লোকাল বাস রাখা হয় আর অন্যটিতে মাছের বাজার বসে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার  বলেন, “দৌলতদিয়ার ২ নম্বর ঘাটে পন্টুন থাকলেও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা রাখা আছে। এছাড়া সেখানে ফেরি ভেড়ানোর মতো অবস্থা নেই।”

About

Popular Links