Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ঘরমুখোদের জন্য অপেক্ষা করছে বাড়তি ভোগান্তি!

আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিসি নতুন পাঁচটি ফেরি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা যানবাহনের চাপ সামলাতে অপর্যাপ্ত বলে ধারণা ঘাট সংশ্লিষ্টদের

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ১১:০০ এএম

যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও ফেরি সংকটে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দুই ঘাটে গাড়ির দীর্ঘ সারি লেগে রয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও ফেরি পারাপারের জন্য যাত্রীবাহী বাসকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। আর পণ্যবাহী ট্রাকের চালক-সহকারীদের দিন-রাত কাটছে ঘাট অভিমুখী রাস্তায়। গেলো একমাস ধরে রোজ এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ রুটের যাত্রী ও চালকদের।

এর মধ্যে নদীতে দেখা দিয়েছে নাব্য সংকট। রয়েছে ঘাটের নানা সমস্যাও। সংকট নিরসন না হলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ঘরমুখো যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় ৭-৮ হাজার যানবাহন ও লাখো যাত্রী পদ্মা নদী পার হয়। ঈদকে ঘিরে এ রুটে যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে পাটুরিয়া ঘাট অভিমুখী রাস্তা এবং ফেরি পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বের হওয়ার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় রাস্তাতেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয় যাত্রীদের। ঈদ শেষে কর্মব্যস্ত রাজধানীতে ফেরার পথেও যাত্রীদের একই রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মায় তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে বলে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও ফেরি তো বাড়ছেই না, বরং মাঝেমাঝে অনেক ফেরি অকেজো হয়েও পড়ে থাকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ঈদে নতুন পাঁচটি ফেরি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও চাপ সামলাতে তা অপর্যাপ্ত।

এছাড়া, সংস্কার না হওয়ায় ঘাটে যানবাহন লোড-আনলোডে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় ১৯টি ফেরির মধ্যে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদে যানবাহনের চাপ বাড়বে। এ চাপ সামলাতে বহরে আরও তিনটি রো রো ফেরি এবং একটি ইউটিলিটি ফেরি যুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রায় ২৩টি ফেরি যানবাহন পারাপার করবে। ঈদের ১০ দিন আগে থেকে এসব ফেরি চলাচল শুরু করবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৪টি সচল রয়েছে। নদীভাঙনের ফলে কয়েকবছর ধরে ১ ও ২ নম্বর ঘাটটি বন্ধ। সম্প্রতি ৬ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকি চারটি ঘাটের মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট কোনোরকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর ৫ ও ৭ নম্বর ঘাট পুরোপুরি সচল রয়েছে।

এছাড়া, নদীর পানি কমে চর জেগেছে। ফলে সরাসরি নৌপথটি ব্যবহার না করে ফেরিগুলো অনেক ঘুরে চলাচল করছে। ঘাটের সমস্যা ও নাব্য সংকটে একটি ফেরিতে যানবাহন তুলতে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে।

বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, “বর্তমানে এ নৌরুটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সমস্যা নিরসনে আমরা চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আসন্ন ঈদে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়বে। এ বিষয়টি বিবেচনায় করে পাঁচটি নতুন ফেরি যুক্ত করা হয়েছে। আগের ১৮টি এবং নতুন পাঁচটিসহ মোট ২৩টি ফেরি চলাচল করবে। এর মধ্যে রো রো ফেরি ১৩টি। ঈদের ১০ দিন আগে থেকে এগুলো চালু করা হবে। বড় দুর্ঘটনা না হলে এবং ফেরিগুলো স্বাভাবিক চলাচল করলে ঈদের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, “ঘাটের মূল সমস্যা হচ্ছে ফেরি সংকট। ফেরি দ্রুত চলাচল করলে এবং যানবাহন দ্রুত লোড-আনলোড হলে যাত্রীরা স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘাট এলাকায় সবাই অস্থির হয়ে ওঠেন। অনেকে নিয়ম মানেন না। উল্টোপথ দিয়ে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সবাইকে নিয়ম মেনে ধৈর্য সহকারে ঘাট পার হওয়ার অনুরোধ করছি। তাহলেই ঘাটের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। চলাচল সহজ হবে। দ্রুত ঘরে ফিরতে পারবেন।”

ঘাটকেন্দ্রিক ছিনতাই-চাঁদাবাজি ঠেকাতে পুলিশ তৎপর থাকবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “ঈদের সময়ে ঘাটে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, দলালের তৎপরতা এবং ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বেড়ে যায়। এসব অপরাধ ঠেকাতে ঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, সবাই পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।”

About

Popular Links