Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

ইউএনও জানান, স্কুলের পোশাক না পরে আসায় ওই শিক্ষিকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শাসন করেন। যাদের মধ্যে একজন হিন্দু ধর্মের শিক্ষার্থীও ছিলেন। এছাড়া স্কুলের পোশাক না পরায় ওইদিন কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীকেও শাসন করা হয়

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২২, ১০:১২ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মালেককে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের একজন এএসপির সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনী পাল, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে- স্কুলের পোশাক না পরে আসায় শিক্ষার্থীদের শাসন করেছেন ওই শিক্ষিকা। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন সনাতন ধর্মেরও ছিলেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল স্কুলের পোশাক পরে না আসার কারণে একজন শিক্ষকও কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীকে শাসন করেছেন। ঘটনাটি পরে হিজাব বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে।”

ইউএনও মিজানুর রহমান জানান, গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন। 

তিনি জানান, যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমোদিনী পাল বলেন, “হিজাব পরে বিদ্যালয়ে যাওয়ায় ছাত্রীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে শামীম আহমেদ জয় নামের ফেসবুক আইডি থেকে ৬ এপ্রিল রাতে একটা পোস্ট দেওয়া হয়। পরে বিভিন্নজন ফেসবুক পোস্টটি ছড়িয়ে দেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যাচার। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি ২২ বছর ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিবারের মতো পরিচালনা করে আসছি। গত ৬  শিক্ষার্থীদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বারবার বলার পরেও অনেকেই স্কুলড্রেস না পরেই বিদ্যালয়ে আসে। এ সময় আমি স্কুলড্রেস নিয়ে শিক্ষার্থীদের বলি ও নামমাত্র শাসন করি ।“

তিনি আরও বলেন, “ গত ১০ বছর ধরে স্কুলে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসবের সুযোগে বিভ্ন্নি গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এদিকে প্রধান শিক্ষকের চাকরির বয়স শেষ। এ অবস্থায় বিভিন্ন মহল নিজ স্বার্থ উদ্ধারে অপপ্রচার করছে। আমার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কমিটি ও প্রতিষ্ঠানের সমস্যা আড়ালে আমাকে বিনাদোষে অপরাধী করার চেষ্টা চলছে। আমি হিজাব বা ধর্মীয় বিষয়ে কোনও কথা বলিনি।”

অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন অভিযোগ করে বলেন, বুধবার দুপুরে জাতীয় সঙ্গীতের পর লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনী পাল কেন হিজাব পরে স্কুলে এসেছে এ কথা জিজ্ঞাসা করে ইউক্যালিপ্টাস গাছের ডাল দিয়ে তাদেরকে প্রহার করেন।


আরও পড়ুন: নওগাঁয় স্কুলের পোশাক না পরায় ১৮ ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ


প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থীকে স্কুলের পোশাকা না পরে আসায় শাসন করেন  স্কুলটির সহকারী প্রধান শিক্ষিকা আমোদিনী পাল। যা পরে হিজাব বিতর্কে রুপ নেয়।

About

Popular Links