Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

বেলাল হোসেন মোল্লাকে আগামী ১০ এপ্রিল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সামনে উপস্থিত হয়ে ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রী মৃত্যুর প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৫৭ পিএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তরপাড়া (কুঞ্জবন) গ্রামে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে বিচার চেয়েছেন  তার স্বামী মো. বেলাল হোসেন মোল্লা।

এ ঘটনার তদন্তে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেনগুপ্তা ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছেন।

মো. বেলাল হোসেন মোল্লাকে আগামী ১০ এপ্রিল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সামনে উপস্থিত হয়ে ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রী মৃত্যুর প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল ভুল চিকিৎসায় স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মো. বেলাল হোসেন মোল্লা।

বেলাল হোসেন জানান, তার স্ত্রী শম্পা বেগম (৩২) ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে গত ৬ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাওন সিকদার টুটুর বাসায় নিয়ে ভিজিট দিয়ে শম্পাকে দেখানো হয়।

পরে, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পেসক্রিপশনসহ ডা. টুটুর পরামর্শে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসেন তিনি। বাড়ি নিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুসারে ওষুধ খাওয়ালেও পরদিন অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ডা. শাওন সিকদার টুটুর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি আগের ওষুধই চালিয়ে যেতে বলেন।

তার অভিযোগ , গত ৮ মার্চ শম্পা বেগমের অবস্থার আরও অবনতি ঘটায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডা. শাওন সিকদার টুটু জানান, তাকে আরও আগেই হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত ছিল। এরপর ডা. শাওন সিকদার নিজের ভুল স্বীকার করে শম্পা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ মার্চ শম্পা বেগম দুর্বল হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ডা. শওন সিকদার টুটু তাকে ঢাকা অথবা খুলনা নিয়ে যেতে বলেন।

তার পরামর্শ অনুসারে, ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শম্পা বেগমের শরীরে গ্লুকোজ নেই বলে জানা যায়। তাকে আরও আগেই গ্লুকোজ ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে সেখানের চিকিৎসকরা জানান। পরে গ্লুকোজ ইনজেকশন দিয়ে তাকে রাজধানীর নিউরো সাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে, অবস্থার আরও অবনতি ঘটায় শম্পা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই গত ১৬ মার্চ তিনি মারা যান।

৪ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু বেলাল হোসেন বলেন, “কোমড়, পা ও পাঁজর ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করি। ছোট একটি চায়ের দোকানের আয় দিয়ে স্ত্রী ও ২ সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছিলাম। দীর্ঘ চিকিৎসায় স্ত্রীর জন্য ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ডা. শাওন সিকদার টুটুর ভুল চিকিৎসায় স্ত্রীকে হারিয়েছি। এখন ঋণগ্রস্থ হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায়ের মতো জীবন যাপন করছি। শাওন সিকদার টুটুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক শাওন সিকদার টুটু বলেন, “শম্পা বেগমের আগে থেকেই হার্ট, কিডনি ও ডিআইসি’র সমস্যা ছিল। এছাড়া তিনি ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ডায়রিয়া নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। চিকিৎসার পর অবস্থা ভালো হলে তার স্বামী তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। তখন তাকে ঢাকা অথবা বরিশালে হৃদরোগের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মৃত্যু সনদে এনকেফালাইটিস ভাইরাসে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমার ভুল চিকিৎসার কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন না।”

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেনগুপ্তা বলেন, “এ ব্যাপরে ৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের সামনে ওই গৃহবধূর স্বামীকে আগামী ১০ এপ্রিল সকাল ১০টায় ভুল চিকিৎসার প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এরপর, মেডিকেল বোর্ড আমার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links