Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইয়াবা রেখে গৃহবধূকে ফাঁসানোর চেষ্টা, পুলিশের নারী ‘সোর্স’ গ্রেপ্তার

তার বিরুদ্ধে এর আগে মাদক ব্যবসা এবং প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩১ এএম

বাড়িতে ঢুকে ইয়াবা রেখে এক গৃহবধূকে ফাঁসাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের “সোর্স” হিসেবে কাজ করা আফরোজা বেগম রাখি (৩৪) নামে এক নারী। তার বিরুদ্ধে এর আগে মাদক ব্যবসা এবং প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার (১১ এপ্রিল) শহরের জহুরুলনগর ব্যাংকপাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ শিল্পী খাতুনের বাসায় ঢুকে ইয়াবা দিয়ে তাকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন রাখি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল আলাল এবং তার এক সহযোগী।

এ ঘটনায় উপশহর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রহিম উদ্দিন রাখির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাখিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আলালের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদক মামলার আসামি আফরোজা বেগম রাখি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। তিনি বগুড়া শহরের জহুরুলনগর ব্যাংকপাড়ার বাসিন্দা।

এদিকে, স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও এক সন্তানকে নিয়ে জহুরুলনগর উকিলপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ফরহাদ। ঘটনার দিন (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে সন্তানের স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরেন শিল্পী।

কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে দাবি করে, শিল্পী মাদক ব্যবসা করেন এবং তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে। বাড়ির কোনো পুরুষ সদস্য তখন উপস্থিত ছিল না। পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা শিল্পীকে তল্লাশির রাখিকে ডেকে আনে। রাখি এসে বিছানার তোষকের নিচ থেকে একটি কাগজে থাকা ১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক করেন।

এরপর ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী ফরহাদকে ফোনে বলা হয়, তার স্ত্রীর কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে, এক লাখ টাকা না দিলে মামলা করা হবে। ফরহাদ এ দাবি বিশ্বাস করেননি এবং তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়িতেও ফেরেননি। দুপুরের দিকে খবর পেয়ে গৃহবধূর তার মা, বোন ও ভগ্নিপতি ঘটনাস্থলে যান। এরপর বাড়িতে ঢোকা প্রতারকরা দাবিকৃত টাকা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।


আরও পড়ুন



একপর্যায়ে তারা ওই গৃহবধূর কাছ থেকে জোর করে “ইয়াবা রাখার” স্বীকারোক্তি আদায় করে এবং তা ভিডিও করে রাখে।

তখন শিল্পীর ভগ্নিপতি বাধ্য হয়ে তাদের ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এভাবে সময় গড়াতে থাকে।

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল আলাল সদর থানায় বিষয়টি জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। শিল্প পুলিশের সাবেক এই কনস্টেবল জহুরুলনগরের যুবলীগ নেতা ফিরোজ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

এ বিষয়ে এসআই রহিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে গৃহবধূ শিল্পী বেগম ও সোর্স, মাদক মামলার আসামি আফরোজা বেগম রাখিকে সদর থানায় নিয়ে আসা হয়।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। তখন রাখিকে গ্রেপ্তার এবং গৃহবধূ শিল্পীকে সাক্ষী করা হয়।

এসআই রহিম আরও জানান, পুলিশ ওই বাড়িতে যাওয়ার আগে সাবেক কনস্টেবল আলাল ঘটনাস্থলে ছিলেন। রাখি আগে পুলিশের সোর্স ছিলেন। তার বিরুদ্ধে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থাকায় ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলা রয়েছে। তদন্তে আলালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।

এ ব্যাপারে সদর থানায় রাখির বিরুদ্ধে মাদক আইন ও দন্ডবিধির ১৯২ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

About

Popular Links