Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ, দেড়শ বিঘা ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

বাড়ি নির্মাণের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত ইমরান শেখ বলেন, ‘ব্রিজ বন্ধ হলে আমার কিছু করার নেই।’

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৫১ পিএম

গোপালগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) নির্মিত ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইমরান শেখ ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন। এতে ওই এলাকার প্রায় ১৫০ বিঘা ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

তারা দ্রুত নির্মাণ কাজ বন্ধ করে এলাকার কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

পদ্মবিলা গ্রামের মশিউর রহমান, গোয়ালগ্রামের মাসুদ শেখসহ আরও কয়েকজন কৃষক বলেন, “গোয়ালগ্রাম-পদ্মবিলা সড়কের গোয়ালগ্রাম পশ্চিমপাড়া চাঁন মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের মুখ বন্ধ করে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটছেন ইমরান শেখ। সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন তিনি।”

তাদের দাবি, বসতবাড়ির নির্মাণ করা জমির মধ্যে সরকারি খাস জমিও রয়েছে। কিন্তু, জমির মালিক প্রভাব খাটিয়ে সবারন কথা অগ্রাহ্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গোয়ালগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর বলেন, “সারা বছর বিলের পানি এ ব্রিজের নিচ দিয়ে ওঠা-নামা করে। ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে গোয়ালগ্রাম ও পদ্মবিলা গ্রামের ১৫০ বিঘা জমিতে পানি যেতে পারবে না। ফলে, বৃষ্টির পানি জমে শুস্ক মৌসুমে ওই সব জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে চাষাবাদ ব্যাহত হবে।”

গোপালগঞ্জে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সরকারি জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা ট্রিবিউন

“এতে করে এলাকার কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকরা যেন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তাই বাড়ি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি,” তিনি বলেন।

এ ব্যাপারে জমির মালিক ইমরান শেখ ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, “ব্রীজ বন্ধ হলে আমার কিছু করার নেই। ব্রিজের মধ্যে আমার জমি রয়েছে। আমি আমার নিজের জমিতে বাড়ি করছি। আমার পাশেই অনেকে খাস জমিতে বাড়ি-পুকুর তৈরি করেছে। তাদের কেউ কিছু বলেন না। এখন ব্রিজ কোনো কাজেও আসে না। তাই আমি অকার্যকর সরকারি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি। ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে সেখানে বসত ঘর বানাচ্ছি।”

এ প্রসঙ্গে মাহমুদপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো দাউদ হোসেন বলেন, “মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর, সাতাশিয়া ও গোয়ালগ্রামে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যার সমাধন আমাদের কৃষি বিভাগের হাতে নেই। তাই ভুক্তভোগী ৩ গ্রামের কৃষককে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে, এসিল্যান্ড চাইলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তা হলেই কৃষকরা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবেন ও কৃষি উৎপাদন ঠিক রাখা সম্ভব হবে।”

কাশিয়ানী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মোরশেদুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের কোনো আমরা অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র অভিযান পরিচালনা করবো। তবে কেউ অবৈধভাবে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে রাখতে পারবে না। কৃষির স্বার্থে এগুলো অবমুক্ত করে দেওয়া হবে।”

About

Popular Links