Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দালালদের দৌরাত্ম্যে নাকাল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট

ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায় ৩ শতাধিক দালালের একটি চক্র রয়েছে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৮:১৫ পিএম

প্রতিটি মূহর্তে ভঙ্গ হচ্ছে ট্রাফিক আইন। যাত্রীবাহী বাস, কাভার্ডভ্যান,পণ্যবাহী ট্রাক, লড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি। সিরিয়ালের তোয়াক্কা না করে যে যেভাবে পারছে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছে।এমন চিত্র এখন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নিত্যদিনের সঙ্গী।

সিরিয়াল না মানায় ফেরিঘাট সংলগ্ন দৌলতদিয়া ট্রাফিক পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ১ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকছে যানবাহনগুলো।  

রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক ইন্সেপেক্টর (টিআই) তারক পাল জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করে যে সকল যানবাহন নদী পারাপার হয় সেগুলো ৩টি ক্যাটাগরিতে ফেরিতে উঠানামা করে। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, প্রাইভেটকার-মাক্রোবাস এই ধরনের যানবাহনগুলোর কোনো সিরিয়াল নেই। দৌলতদিয়া ঘাটে আসলে এসব যানবাহন ফেরিতে উঠার জন্য ডান পাশ ব্যবহার করে চলে যায়।তবে, সংখ্যা অতিরিক্ত হলে এসব যানবাহনের বিশেষ একটি সিরিয়াল দেওয়া হয়। যাত্রীবাহী বাস, পচনশীল পন্যবাহী ট্রাক, লড়ি, কাভার্ডভ্যান এর জন্য নির্ধারিত একটি সিরিয়াল রয়েছে এবং অপচনশীল পন্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কুরিয়ার সার্ভিস গাড়ির জন্যও একটি সিরিয়াল দেওয়া হয়। 

তিনি আরও জানান, যানবাহনের শৃঙ্খলা বাস্তবায়ন করার জন্য দৌলতদিয়া ট্রাফিক পুলিশ কন্ট্রোল রুমের রয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা। একজন ট্রাফিক ইন্সেফেক্টর (টিআই), দুইজন সার্জেন্ট, দুইজন কনেস্টবল কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষেত্র বিশেষে দায়িত্বরত পুলিশের সংখ্যা কমানো ও বাড়ানো হয়। তবে, ধুলাবালির কারণে দৌলতদিয়া ঘাটের সিসি ক্যামেরাগুলো মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় বলেও জানান তিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ট্রাফিক কট্রোল রুম থেকে মহাসড়কে ৪ কিলোমিটার সড়কে রাস্তা ৪ লেন রয়েছে। দৌলতদিয়া ট্রাফিক পুলিশ কট্রোল রুম থেকে ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ১ কিলোমিটার মহাসড়কে রয়েছে বাইপাস সড়ক। ট্রাফিক আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলে ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক থেকে এই ৫ কিলোমিটার রাস্তায় যানজট হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবুও ফেরিঘাটের প্রধান সড়ক থেকে এই ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের নিয়মের তোয়াক্কা না করে যানবাহনগুলো পিছন থেকে সামনে নেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলে।পল্টুনে ফেরি ভেরানোর আগেই সেখানে উঠে পড়ে অসংখ্য যানবাহন।এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে  যানবাহন লোড-আনলোড হয়, ব্যয় হয় অতিরিক্ত সময়। 

জানা গেছে, এভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায় ৩ শতাধিক চিহ্নিত দালালের একটি চক্র রয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাটে এসব দালালদের বৈধতা দিচ্ছে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া যানবাহন মালিকগণ।এ সকল মালিকরা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বেতন দিয়ে কর্মচারীও রেখেছেন। এসব কর্মচারীরা সিরিয়াল ভঙ্গ করে যোগসাজশে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহের কাজও করেন। 

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থানরত এরকম একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী মুন্সি শাহাদত হোসেন। তার সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি “জননী এক্সপ্রেস পার্সেল সার্ভিস” এর নিয়োগপত্র বের করে দেখান।নিয়োগপত্র সূত্রে, তার বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলায়। তিনি জানান, “জননী এক্সপ্রেস পার্সেল সার্ভিস” কাভার্ডভ্যানগুলো ফেরি পারাপার করার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে কাজ করছেন।    

দালাল ছাড়া ফেরির টিকিট মেলে না এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা বন্দরের উপসহকারী পরিচালক খালেদ নেওয়াজ বলেন, “বিষয়টি সম্পূরর্ণভিত্তিহীন।যে কেউ টিকিট কাউন্টারে এসে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। সে দালাল নাকি যানবাহন চালক আমাদের নিশ্চিত করার দায়িত্ব নয়।”

About

Popular Links