Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেভাবে নিউমার্কেটে দোকানিদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ঢাকা কলেজের ছাত্ররা

সোমবার রাত ১০টার দিকে নিউমার্কেটের চার নাম্বার গেটে ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র একটি দোকান থেকে বার্গার কিনতে গেলে দাম নিয়ে ঝামেলা হয়

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৫১ পিএম

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় সোমবার রাত ১২টায়। বিরতির পর মঙ্গলবার সকালে আবার শুরু হয়। ফলে নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যারেটরি পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুরো এলাকার রাস্তাঘাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ব্যবসায়ীরা টার্গেট করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই হামলায় দুই পক্ষই লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে।

শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টার দিকে নিউমার্কেটের চার নাম্বার গেটে ঢাকা কলেজের কয়েকজন ছাত্র একটি দোকান থেকে বার্গার কিনতে গেলে দাম নিয়ে ঝামেলা হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। তখন দোকানের কর্মচারীরা এক হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। কলেজে ফিরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের নিয়ে ফিরে আসলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়।

আরও শিক্ষার্থী আসলে সংঘর্ষ বাধে। রাত ৩টার দিকে ওই সংঘর্ষ শেষ হয়। পুলিশ এসে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তখন ঢাকা কলেজের সামনে পুরো মিরপুর রোড বন্ধ হয়ে যায়।

নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শহিদ বলেন, “কোনা চাঁদাবাজির ঘটনা নয়, বার্গারের দাম নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তবে পুলিশ চাইলে রাতেই দুইপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করে দিতে পারত।”


আরও পড়ুন- পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা আর বাড়াবাড়িতে রণক্ষেত্র


তিনি অভিযোগ করেন, “সকাল ৯টার দিকে ছাত্ররা আবার বেরিয়ে এলেও পুলিশ আসে দুপুর একটার পরে। তারা ঠিক সময়ে আসলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ত না।”

ঢাকা কলেজের  ছাত্র ও ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফুয়াদ হাসান অভিযোগ করেন, “মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেটে ছাত্রদের মারধর করার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর ছাত্ররা উত্তেজিত হলে সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ এসে ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে ছাত্রদের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি খারাপ হয়। রাতেই এটা সমাধান করা যেত।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল পুরো বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নিউমার্কেটের দোকানপাট খুলবে না। কিন্তু সকালে আবার দোকানপাট খুললে ছাত্ররা প্রতিবাদ জানাতে বের হয়ে আসে। সকাল ৯টার দিকে ফের সংঘর্ষ শুরু হলেও পুলিশ আসেনি। পুলিশ আসে দুপুর একটার পর। আর এসে ছাত্রদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস ছোড়ে। ব্যবসায়ীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে আমাদের ওপর হামলা করে।”

আলী হোসেন নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, “ভাই আমাদের এখন ঈদের বাজার। গত দুই বছর ধরে আমরা ব্যবসা করতে পারিনি। এখন দোকানপাট বন্ধ থাকলে আমরা পথে বসে যাব। তাই সোমবার রাতেই আমরা এর একটা সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আর সকালেও পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়নি।”

তিনি জানান, ওই এলাকায় শুধু নিউমার্কেট নয় আরও অনেক মার্কেট আছে। ছোট বড় মিলিয়ে অনেক ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসা করেন।

About

Popular Links