Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাতারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা এতো বেশি কেন?

২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কাতারে যাওয়া প্রায় একহাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ০১:৫৫ পিএম

২০২২ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতার। এ উপলক্ষে দেশটি জুড়ে সাজসাজ রব, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে দেশটি। তবে বিশাল এ আয়োজনের প্রস্তুতির পেছনের কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষ করে অবকাঠামোগত পরিবর্তনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের ভেতর উল্লেখযোগ্য একটি অংশের আশংকাজনক মৃত্যু পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।


২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কাতারে একহাজার বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়া থেকে যাওয়া কমপক্ষে সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত কাজের চাপ

১৪ মাস আগে স্বামীকে হারান পর থেকে খায়রুন বেগম। শেষবার যখন স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, তখন তার স্বামী কাতারের একটি হাসপাতালে জন্ডিসের সঙ্গে লড়ছিলেন বলে জানতে পারেন। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা খাইরুন বেগমের।

 ছয় বছর আগে কাজের সন্ধানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাতারে যান কামাল নামে এক ব্যক্তি। পরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার। তার ছোট ভাই আলাদিন মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, তার ভাই প্রায়ই তার পরিবারকে ফোন করে বলতেন যে, তিনি আর ভারী কাজের চাপ সহ্য করতে পারছেন না। 

জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

পরিসংখ্যান কী বলে

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসেব মতে, বাংলাদেশের ৮,২১,৮৬৫ জন শ্রমিক কাতারে কর্মরত আছেন।

গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস রিসোর্স সেন্টারের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের ভেতর বিশ্বকাপ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪,৪০০ শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারত থেকে যাওয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২০ সালে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১২ জন মারা গেছেন। যাদের ভেতর বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।শ্বাসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অথবা হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে বেশিরভাগ মৃত্যু হচ্ছে।

যদিও কাতার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শ্রমিকদের সংখ্যা অনুযায়ী মৃত্যুহার খুব বেশি নয়। 


About

Popular Links