Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নাইজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে ‘টাকাকে ডলার’ বানানোর লোভ দেখাত তারা!

এই ১১ নাইজেরীয়কে সহায়তার অভিযোগে চাঁদনী আক্তার নামে এক বাংলাদেশি নারীকেও গ্রেপ্তার করেছে ডিবি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ১০:০৬ পিএম

ওরা ১১ জন বাংলাদেশে এসেছে নাইজেরিয়া থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দিত ইউরোপ-আমেরিকার নাগরিক হিসেবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণা। সেই উদ্দেশ্যে তারা একটি যন্ত্রের মাধ্যমে টাকাকে ডলারে পরিণত করার লোভ দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। তাদের সহযোগিতা করতেন কয়েকজন বাংলাদেশি।

বুধবার (২০ এপ্রিল) রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

অভিযুক্ত নাইজেরীয়রান হলো- হেনরি ওসিতা ওকেচুকু, চিসম ইমানুয়েল ওবাইজুলু, ওকাকে পিটার, ওবিনা সান্ডে, ওনেকা এমবা, চিছম অ্যান্থনি ইকুয়েনযে, ওকেয়া আজুবিকে, অনুয়ারাহ ওযুয়েমেনা ডানিয়েল, অনুরুকা জিনিকা ফ্রান্সিস, লুকে, ডোমাডু চিনেডো।

তাদের সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক চাঁদনী আক্তার নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে ‘‘ভুয়া পরিচয়’’ দিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ জানান, হেনরি ওসিতা ওকেচুকু এবং চিসম ইমানুয়েল এই প্রতারক চক্রের প্রধান।

তিনি বলেন, “এই দুইজনই মূলত বাংলাদেশি সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতকৃত টাকা গ্রহণ করে তা সবার কাছে বণ্টনের দায়িত্ব পালন করে। অন্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ইউরোপ-আমেরিকার নাগরিক হিসেবে ভুয়া পরিচয়ে আইডি খুলে বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলত।”

যেভাবে হতো প্রতারণা

চক্রটি একটি বক্সে কয়েকটি বৈধ ডলার সামনে রেখে এবং সিলভার কাপড়ে মোড়ানো কয়েকটি বান্ডেল (যেখানে কোনো ডলার নেই, বিভিন্ন দ্রব্য থাকে) দেখিয়ে একটা অংক উল্লেখ করে সমপরিমাণ টাকা রাখা হলে তা ডলারে পরিণত হবে বলে প্রলোভন দেখাত।

পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজ বলেন, “এ প্রলোভনে পড়ে অনেকেই টাকা খুইয়েছেন।”

তাদের কাছ থেকে একটি ‘‘ডলার ট্রিক’’ মেশিন, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৭টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, রাসায়নিকের বোতল, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টের কপি উদ্ধার করা হয়।

নাইজেরীয় এই প্রতারকরা দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা করে আসছিল জানিয়ে হাফিজ আকতার বলেন, “বন্ধু হিসেবে সখ্য তৈরি করে উপহার পাঠানো কিংবা বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়েও তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।”

বাংলাদেশিদের ভূমিকা

অভিনব এ প্রতারণায় চাঁদনী আক্তার ছাড়াও আরও কয়েকজন বাংলাদেশি জড়িত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তার ভূমিকা বর্ণনা করে পুলিশ জানায়, কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে চাঁদনী ওই চক্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রতারণার কৌশল হিসেবে বিদেশিদের পাঠানো উপহার-ডলার বা পাউন্ড ছাড়িয়ে নিতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আদায় করত।

চক্রের সদস্যরা ইউরোপ-আমেরিকার “সেনা কর্মকর্তা” পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখানোর কৌশল অবলম্বন করত।

অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, “একপর্যায়ে বাংলাদেশে গিফট পাঠিয়েছে অথবা টার্গেট ব্যক্তিকে ব্যবসায়িক অংশীদার করার কথা বলে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নিত।”

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানায় ডিবি।

About

Popular Links