Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ায় ‘ধর্ষকের’ সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

পরিবার থেকে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ ও অভিমানে গত ১৭ এপ্রিল রাতে কীটনাশক পান করেন ওই শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২২, ০৮:১৭ পিএম

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চা দোকানির প্রতারণার শিকার হয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রী (১৫) বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটির মৃত্যু হয়।

মৃত ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, মেয়েটি খামারকান্দি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই গ্রামের চা বিক্রেতা আবু মুছা তাকে বিরক্ত করত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “মুছা মাল্টিমিডিয়া” নামে তার একটি আইডি আছে। সেই আইডি ব্যবহার করেই মুছা ফেসবুক থেকে ওই ছাত্রীর ছবি নিয়ে সেগুলো এডিট করে অশ্লীল ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ব্ল্যাকমেইল করত। 

এসব ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে তার সঙ্গে “প্রেম” করতে বাধ্য করে মুছা। একপর্যায়ে বাধ্য করা হয় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনেও। 

বিষয়টি জানার পর মেয়েটির পরিবার মুছাকে নিষেধ করে। কিন্তু অভিযুক্ত মুছা বিয়ের জন্য ওই ছাত্রীকে চাপ দিতে থাকে।

পরিবার থেকে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ ও অভিমানে গত ১৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে নিজের ঘরে কীটনাশক পান করে ওই শিক্ষার্থী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

সোমবার বিকেলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে না দেওয়ায় ওই ছাত্রী বিষপান করে। তবে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ বা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার ব্যাপারে পুলিশ অবগত নয়। মামলা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৃত শিক্ষার্থীর মামা জানান, আবু মুছা মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে তার ভাগ্নিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

তিনি দাবি করেন, তার ভাগ্নিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে মুছা। তারা এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেবেন।

শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবু মুছা আত্মগোপন করেছে।”

পুলিশ ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে বলে ওসি জানান।

About

Popular Links