Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে নতুন ঘর পাচ্ছে ৩৩ হাজার পরিবার

আরও দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিজের স্থায়ী একটি ঠিকানা পেতে যাচ্ছে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২২, ১১:০১ এএম

মুজিববর্ষে কোনো মানুষকে গৃহহীন না রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য সারাদেশে ঘর তৈরি হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে আরও ৩২ হাজার ৯০৪টি বাড়ি‌ হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে দেশের চার উপজেলায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব ঘর হস্তান্তর করবেন। ফলে আরও দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিজের স্থায়ী একটি ঠিকানা পেতে যাচ্ছে। এতে এসব গৃহহীন পরিবার শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরাসরি গণভবন থেকে যুক্ত হবেন। তিনি একে একে এ চার উপজেলায় গৃহহীন মানুষদের হাতে ঘরের দলিল তুলে দিবেন।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকারভোগী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং তাদের কথা শুনবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন যে বাংলাদেশের কোনো মানুষ যাতে ভূমিহীন, গৃহহীন না থাকে। সেজন্য তিনি দুই শতক জমির ওপর দুই রুম বিশিষ্ট একটি ঘর উপহার দিচ্ছেন। এসব ঘরের নকশা প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রণয়ন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “যে ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে সেগুলো স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়া হচ্ছে। যার স্বামী নেই সেক্ষেত্রে স্ত্রীর নামে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে প্রায় ৩৩ হাজার ঘর হস্তান্তর করবেন তাতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ যাদের একটি ঠিকানা ছিল না, দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না, তারা একদিনে আশ্রয় পাবে।”

তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানান, প্রতিটি বাড়ির দাম ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ সাড়ে ৫৯ হাজার টাকা করা হয়েছে যাতে তারা আরও টেকসই এবং উন্নত মানের ঘরে বসবাস নিশ্চি হতে পারে।

ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম আবাসন প্রকল্প। রঙিন টিনশেডের প্রতিটি একক ঘরে ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি করে শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, টয়লেট এবং সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে।

সরকারি খাস জায়গা কিংবা দখল হওয়া জায়গা দখলমুক্ত করে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮ বিভাগে বিপুল পরিমাণ বেদখল হওয়া সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এই জমির মূল্য প্রায় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।

প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬০,১৯১টি ঘর এবং ২০ জুন ৫৩,৩০০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিত মোট ঘরের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি। তৃতীয় পর্যায়ে নির্মাণাধীন একক ঘরের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬৭৪টি।

About

Popular Links