Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মিলেছে জাল নোট ব্যবসার প্রমাণ, তবুও নির্বিঘ্নে চাকরি এএসআইয়ের

দুই তরুণকে জাল নোটের ব্যবসায় নামতে বাধ্য করেন তিনি। ধরা পড়লে তাদের নির্যাতন করে তাজহাট থানা পুলিশ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২৪ পিএম

জাল নোটের ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাহিনীর এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত এএসআই মো. আল আমিন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। চার্জশিটে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

আরএমপি কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের জুলাইয়ে আল আমিনের বিরুদ্ধে জাল টাকার কারবারে জড়িতে থাকার অভিযোগ ওঠে। মেলে প্রাথমিক প্রমাণও। কিন্তু দীর্ঘ এই ৯ মাসেও তাকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, কোনো ধরনের শাস্তি দেয়নি পুলিশ। অভিযোগ মাথায় নিয়েই দিব্যি চাকরি করে যাচ্ছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আরএমপির কোনো পুলিশ কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আরএমপি ট্রাফিক শাখায় কর্মরত এএসআই আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার ব্যবসা করে আসছিলেন। গত বছর তার সঙ্গে পরিচয় হয়  নগরীর পশ্চিম মুলাটোল মহল্লার বাসিন্দা সোহান ও তার বন্ধু নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার জিসানের সঙ্গে। 

গত বছরের ৫ জুলাই এএসআই আল আমিন সোহান ও জিসানকে নগরীর সোডাপীর এলাকার একটি হোটেলে ডেকে পাঠান। সেখানে গেলে আল আমিন দুটি ৫০০ টাকার জাল নোটের বান্ডেল তাদের হাতে ধরিয়ে দেন। প্রলোভন দেখান, এসব নোট চালাতে পারলে লভ্যাংশের অর্ধেক তাদের দেওয়া হবে।

ওই দুই তরুণ এতে রাজি না হলে একরকম জোর করেই তাদের হাতে পাঁচটি ৫০০ টাকার জাল নোট ধরিয়ে দিয়ে প্রাথমিকভাবে সেগুলো চালানোর জন্য বলেন। বাধ্য হয়ে তারা সেগুলো চালানোর উদ্দেশ্যে মিঠাপুকুরে যান। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে নগরীর প্রবেশদ্বার দমদমা সেতুর কাছে পুলিশের চেকপোস্টে তারা জাল নোটগুলোসহ ধরা পড়েন। 

এরপর সোহান ও জিসানকে আটক করে তাজহাট থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। 

থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, জাল নোটগুলো ট্রাফিক বিভাগের এএসআই আল আমিন তাদের দিয়েছেন। তখনই তারা বিষয়টি প্রমাণের জন্য আল আমিনের ফোনে কল করে তাজহাট থানা পুলিশ সদস্যদের সামনে লাউডস্পিকারে কথা বলেন।

তাজহাট থানার ‘সহায়তা’

এদিকে, বাহিনীর সদস্য আল আমিনকে বাঁচাতে এসআই আশাদুল ইসলামকে বাদী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে তাজহাট থানা (নম্বর ২, ৫-৭-২১)। এই মামলার এজাহারে সোহান ও জিসানের নাম উল্লেখ করা হলেও কৌশলে আল আমিনের পরিচয় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

এরপর তাজহাট থানা পুলিশ ওই দুই তরুণকে অমানুষিক নির্যাতন করে। একই সঙ্গে জাল টাকার বিষয়ে তাদের কথামতো ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলে “ক্রসফায়ারে” মারার হুমকি দেয়।

৬ জুলাই সোহান ও জিসানকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা এএসআই আল আমিন কীভাবে তাদের ডেকে এনে জাল টাকা নিতে বাধ্য করেছিলেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ

এদিকে, সোহানকে নির্যাতন ও জাল টাকা নিতে বাধ্য করাসহ পুরো বিষয়টি তুলে ধরে আরএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তরিকুল ইসলাম।

এখন যা বলছে পুলিশ

সার্বিক বিষয়ে আরএমপি কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদের কাছে গেলে তিনি জাল টাকার ব্যবসায় আল আমিনের সম্পৃক্ততার রয়েছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান। তিনি আরও জানান, তদন্তে জাল টাকার কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

তিনি গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরারও আহ্বান জানান।

তবে দীর্ঘ ৯ মাসেও কেন আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হলো না, জানতে চাইলে পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কথা বলেননি। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাজহাট থানার এক কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আদালত চার্জশিট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে। এরপর তাকে আদালতে হাজির হতে হবে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

About

Popular Links