Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বাগেরহাট

পর্যাটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে

আপডেট : ০২ মে ২০২২, ০৮:০৯ পিএম

দেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে দুটিই বাগেরহাটে অবস্থিত। একটি খানজাহান আলী নির্মিত ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, অন্যটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। যা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আকর্ষণ করে দুর্বার।

এই দুটি স্থানকে ঘিরে বাগেরহাটের আরও কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব দর্শনীয় স্থানে সারা বছরই কমবেশি দর্শনার্থী আসেন দেশ-বিদেশ থেকে। তবে বিশেষ কিছু দিনকে কেন্দ্র করে এই দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ।

গত দুই বছরে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছিল দুর্দশা। ইচ্ছে থাকলেও ঘুরে বেড়ানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে সেগুলো এখন পর্যটকদের কাছ থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রস্তুত। 

সুন্দরবন ও ষাট গম্বুজ মসজিদে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও জেলা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

আর ষাট গম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, সদর উপজেলার চন্দ্রমহল ইকো পার্ক, ব্যারাকপুরের সুন্দরবন রিসোর্ট সেন্টার, শহরের দশানী পার্কসহ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান মো. যায়েদ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ষাট গম্বুজ মসজিদে অনেক পর্যটক আসেন। এ বছর লম্বা সরকারি ছুটিতে আরও বেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যাটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রমহলের ব্যবস্থাপক মহব্বত আলী চাকলাদার জানান, গত দুই বছর করোনাভাইরাসের কারণে দর্শনার্থী আসতে পারেনি। এ বছর টানা ছুটিতে অনেক বেশি দর্শনার্থী আসবেন। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

গত দুই বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, “রমজান ও প্রচণ্ড গরমের কারণে এ বছর পর্যটক খুবই কম। ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে করমজলে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি পর্যাটক আসেন। ঈদের দিন মূলত স্থানীয় লোকজন এখানে ঘুরতে আসেন। পরদিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এবার ঈদ উপলক্ষে করমজলকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রচুর মানুষ ঘুরতে আসেন। ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, শরণখোলা রেঞ্জসহ আশেপাশের পর্যটনকেন্দ্রে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী এবং বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বতিল করা হয়েছে। 

বাগেরহাট ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের দুটি টিম কাজ করছে।”

About

Popular Links