Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক সপ্তাহ পর বিপৎসীমার নিচে সুরমা নদীর পানি

বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটে ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ০৭:১২ পিএম

আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। সোমবার (২৩ মে) সিলেটের আকাশ ছিল রৌদ্রকরোজ্জ্বল। এদিন মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে বন্যার পানি দ্রুত নামতে দেখা যায়। এদিকে, সপ্তাহখানেক পর সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। সোমবার সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।  

এদিকে, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটে ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১১ মে বন্যা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সিলেটে ডায়রিয়ায় ১১৪ জন ও চর্মরোগে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। 

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, “ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানি খেতে বলা হয়েছে। চর্মরোগে আক্রান্তদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বন্যা শুরুর পর সিলেট নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় তাদের ১৪০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এসব মেডিকেল টিম উপদ্রুত এলাকার মানুষজনকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করছে। তারা আক্রান্তদের খাবার স্যালাইন ও ঔষধপত্র সরবারহ করছে।”

বন্যা পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জন অফিস জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বন্যা পরবর্তী ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে বন্যার্তদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন। 

সিলেট নগরীর ছড়ারপারের বাসিন্দা সুনীল সিংহ জানান, তার বাসা থেকে বন্যার পানি নামার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের অনেকের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। পাড়ার অনেক বাসিন্দাও চর্মরোগে আক্রান্ত। 

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে ১১ মে থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ধীরে ধীরে বন্যা বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট মহানগরের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়। মহানগরীর প্রায় ২০ টি ওয়ার্ড বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় অনেক মানুষই বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নেন। ২১ মে রাত থেকে এসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে। সোমবার নগরীর অনেক স্থান থেকে পানি নেমে যায়। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানায়, সোমবার দুপুর ১২টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার, আমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। 

পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান, বন্যার পানি দ্রুতই কমছে। সিলেটে সুরমার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ ও ডাইক মেরামতের কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

About

Popular Links