Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘স্কুল পোশাকে’ টিকটক ভিডিও করায় ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, প্রতিবাদে ভাঙচুর

ভাঙচুরের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ

আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ১০:৪৭ এএম

নাটোরে স্কুলের পোশাক পরে টিকটকে ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় নবম শ্রেণির ৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২৯ মে) বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রকলা সাইফুল ইসলাম (এস আই) উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং স্কুল ভবনের দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। ইট পাটকেল নিক্ষেপের সময় এক শিক্ষার্থী আহত হয়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভের সময় শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা খাতুন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে তদন্ত করে নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

চন্দ্রকলা (এস আই) উচ্চ বিদ্যালয়েরভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নবম শ্রেণির দুই ছাত্র ও এক ছাত্রী স্কুলের পোশাক পরে টিকটকের ভিডিওধারণ করে ফেসবুকে ছাড়ে। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ওই তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।এরার রবিবার ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ করে স্কুলে ঢুকে দরজা জানালার কাঁচসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় স্কুলের প্রবেশ দ্বার বন্ধ করে দিলে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।”

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনাটি রবিবার সকালে তারা জানতে পারে। পরে তারা তাদের বহিষ্কারের কারণ জানতে চাইলে তাদের হাতে বিদ্যালয়ের ছাড়পত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ বলেন, “ভাঙচুরে খবর পেয়ে পুলিশ চন্দ্রকলা স্কুলে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনজনকে আটক করে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

ইউএনও আফরোজা খাতুন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের দরজা-জানালার কাঁচসহ কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর আবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নিদের্শ অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাআকতার হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের কোনো চিঠি তিনি পাননি। তবে বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এবং সরকারের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রাপ্তবয়স্ক নয়। তাদের বহিষ্কার না করে অভিভাবকদের ডেকে সর্তক করা উচিত ছিল। ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কোমলমতি শিশুদের ভবিষৎ যেন নষ্ট না হয়। সে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

About

Popular Links