Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাত নেই, তবুও ‘সব’ পারে সিয়াম

সিয়ামের মা জোসনা বেগম বলেন, ‘টাকার অভাবে ছেলেকে কখনো ভালো কিছুই খাওয়াতে বা পরাতে পারি না।' 

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২৫ পিএম

‘লেখাপড়ার জন্য সিয়ামকে কখনো বলতে হয় না। নিজের ইচ্ছায় সিয়াম সব সময় পড়ালেখা করে। কিছু কিছু কাজ ছাড়া সব কাজ নিজেই করতে পারে। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে খেলাধুলাও করতে পারে।’

কথাগুলো বলছিলেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রতিবন্ধী শিশু সিয়ামের মা জোৎস্না বেগম। 

উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পত্তির জিন্নাহ মিয়া ও জোৎস্না বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম সবার ছোট।

জন্ম থেকেই সিয়ামের দুই হাত নেই। এই অবস্থাতেই বাম পা দিয়ে লিখে ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে সে। গতকাল সোমবার সকালে এই এলাকার মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে বাংলা পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে সিয়ামকে। 

পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সিয়াম বলে, ‘আমার দুই হাত না থাকলেও তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। পা দিয়ে লিখতে লিখতে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমার সব কাজ আমি নিজেই করতে পারি। আমি লেখাপড়া করতে চাই। লেখাপড়া করে সরকারি বড় একটা কর্মকর্তা হতে চাই। বড় কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চাই।’

সিয়ামের মা জোসনা বেগম বলেন, ‘টাকার অভাবে ছেলেকে কখনো ভালো কিছুই খাওয়াতে বা পরাতে পারি না। ওর নামে একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাইছি। সেই টাকায় কিছুই হয় না। সরকার যদি আরও ভালো কোনো অর্থিক সহায়তা দিতো তাহলে সিয়ামের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হতো।’ 

এ ব্যাপারে উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা জানান, সিয়াম প্রথম শ্রেণি থেকেই তাদের স্কুলে পড়ালেখা শুরু করে। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মাঝ পথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার পড়ালেখা। প্রতি মাসে ২৫০ টাকা বেতনও দিতে পারতো না। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বেতন মওকুফ করে আবার পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি সে সব ধরনের খেলাধুলায় পারদর্শী। অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে তার মেধা ভালো। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি বা সরকারি কোনো সহায়তা পেলে সে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে সেটা আমার জানা ছিলো না। আমি খোঁজ নিয়ে তার সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

About

Popular Links