Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তিন বছরের মারিয়ার নমুনা পেলে শুরু হবে তার বাবার মরদেহ শনাক্তের কাজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও অনেক নিখোঁজ ব্যক্তিরই সন্ধান মিলেনি

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ০২:১০ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হয়েছেন অনেকে। বিস্ফোরণের ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেক নিখোঁজ ব্যক্তিরই সন্ধান মেলেনি এখনও। তাদের মধ্যে একজন ডিপোর কর্মী মো. রুবেল (২৬)। তার মরদেহ শনাক্ত করতে তিন বছরের শিশুকন্যা মারিয়াকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন স্ত্রী মুন্নি আকতার।

সোমবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মেয়েকে কোলে নিয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে আসা মুন্নি আকতার বলেন, “বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে আমার স্বামীর খোঁজ পাচ্ছি না। সব হাসপাতালে গিয়েছি, কেউ তার সন্ধান দিতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “চমেক হাসপাতালে এসে শুনি যেসব লাশের পরিচয় মেলেনি বা যারা স্বজনকে খুঁজে পাচ্ছেন না, তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাই আমি আর আমার মেয়ে নমুনা দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছি।”

এদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ মনির হোসেনের (৩২) সন্ধানে‌হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন তার ছোট বোন মোহছেনা আকতার কলি। ভাইয়ের সন্ধানে চমেকে আসা এই নারী বলেন, “৬ মাস আগে আমার ভাই বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী রহিমা আকতার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ মিলছে না। আমরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছি।” 

মনিরের বাবা আবদুল হান্নান বলেন, “১০ বছর ধরে আমার ছেলে এই ডিপোতে কাজ করছে। সে গাড়িচালক ছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তাই ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছি।” 

সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন আরেক গাড়িচালক আবুল হাসেম (৪৫)। হাসেমের খোঁজে তার ভাই আনিসুল হক চমেক হাসপাতালে এসে বলেন, “আবুল হাসেম বিএম কন্টেইনার ডিপোর গাড়িচালক। ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা সব হাসপাতাল ঘুরেও খুঁজে পাইনি।” 

সোমবার চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) সামনে চট্টগ্রাম সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি ফরেনসিক দল সীতাকুণ্ড অগ্নিকাণ্ডে অজ্ঞাতপরিচয় নিহতদের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করতে বুথ বসায়।

এখন পর্যন্ত বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ও আগুনে মৃত ২২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত লাশ হস্তান্তর করেছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৯ জনের মধ্যে ৪১টি মরদেহ সিএমএইচে রয়েছে। বাকি ৮ জনের মরদেহ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছে। ২২ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও ১৯ জনের লাশ হাসপাতাল মর্গে আছে। তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সংস্থাটির ফরেনসিক বিভাগ নিহতদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করছে।” 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বাকিদের লাশ ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর হস্তান্তর করা হবে। তবে রিপোর্ট পেতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। ততদিন এসব লাশ মর্গের ফ্রিজারে রাখা হবে।” 

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর  দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা ৪৫০ ছাড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে যৌথভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা  প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, র‍্যাব,  সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি ও স্থানীয় বিভিন্ন  সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

About

Popular Links