Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পোশাক শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রী: কারখানা বন্ধ হলে আমও যাবে, ছালাও যাবে

বেতন বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট : ০৭ জুন ২০২২, ০৫:৫৬ পিএম

নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং বেতন বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আন্দোলনের কারণে কারখানা বন্ধ হলে তো চাকরি চলে যাবে। কেউ অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলে এ কূল ও কূল, দু’কূল হারাতে হবে। পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। তখন বেতন আর বাড়বে না, বেতনহীন হয়ে যেতে হবে। এটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে।”

মঙ্গলবার (৭ জুন) ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। 

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানির বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্রমিকদের বেতনতো বন্ধ হয়নি। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি, টাকা দিয়েছি। ভর্তুকি দিয়ে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা যাতে বেতনটা সরাসরি পায়, সেই ব্যবস্থাটা করেছি। সরাসরি ফোনের মাধ্যমে টাকা দিয়েছি। মালিকদের হাতে তো দিইনি। তারপরও গার্মেন্ট শ্রমিকরা আন্দোলন করে।”  

তিনি বলেন, “আজকে বেতন বাড়ানো, এটা-সেটা নানা দাবিতে আন্দোলন করতে যায়। এই রপ্তানি যদি বন্ধ হয়, তাহলে পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আমও যাবে, ছালাও যাবে। বেতন আর বাড়বে না, তখন চাকরিই চলে যাবে। ঘরে ফিরে যেতে হবে। তখন কী করবে?”

কাদের প্ররোচনায় আন্দোলন হচ্ছে তাও ভেবে দেখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি খুব খোলাখুলি বাস্তব কথাটাই বললাম। যারা কিনবে তাদের ক্রয় ক্ষমতাও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। আমরা আমেরিকা, ইউরোপসহ বিভিন্ন জায়গায় পণ্য পাঠাই। প্রত্যেক জায়গায় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সেখানে মানুষ দুরবস্থায় আছে। কত মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মানুষকে খাদ্য, টিকা, ওষুধসহ সবকিছু দিয়ে যেতে পারছি।”

তিনি বলেন, “কেউ আশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলে, আমি বলবো শেষে এ কূল ও কূল, দু’কূল হারাতে হবে। এটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে।”

করোনাভাইরাসে কারণে বৈশ্বিক মন্দা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। 

শেখ হাসিনা বলেন, “ইংল্যান্ডের মানুষ তিন বেলা খেতো। এখন একবেলা খাবার বাদ দিয়েছে। তাদের সীমিত আকারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ভোজ্যতেল এক লিটারের বেশি কেউ কিনতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে।”

বাংলাদেশে ভর্তুকি দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে তুলেছিলাম। সেই টাকা ভেঙে ভেঙে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষি ও স্বাস্থ্যের জন্য ভর্তুকি এবং সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এভাবে কোনো দেশ করেনি।”

গ্রামের মানুষের অবস্থা এখনও অনেক ভালো আছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সেটা যাতে ভালো থাকে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি। যে কারণে আমি আহ্বান করেছি, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কারণ বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাব, খাদ্য মন্দা। সেখানে আমাদের নিজেদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ফসল ফলাতে হবে। নিজেদের খাবারের ব্যবস্থাটা অন্তত আমরা নিজেরা করবো।”

সবাইকে মিতব্যয়ী ও খাদ্য অপচয় না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবাই সঞ্চয় করুন। সবতো আর সরকার করতে পারবে না। নিজেকেও করতে হবে। এটা আমি আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে বলবো।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ না থামলে আমদানি ব্যয় বাড়বে। যার ফলে জিনিসের দাম বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের নেতারা ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

About

Popular Links