Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের গুলি, আহত ১৫

গ্রামবাসীর হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে

আপডেট : ০৯ জুন ২০২২, ১০:৩৯ পিএম

বরিশাল ও ভোলার দুই গ্রামবাসীর চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গুলিতে আটজন নারীসহ ১৫ জনের আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

গ্রামবাসীর হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন)  দুপুর দেড়টার দিকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে মেহেন্দীগঞ্জের মহিষমারা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় ভোলার চরচটকিমারা গ্রামের মানুষ। সেটি থামাতে গিয়ে পুলিশ গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহিষমাড়ি ও চরচটকিমারা গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রায়শই চরচটকিমারা গ্রামবাসী মহিষমারার চর দখলে হামলা চালায়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার চরচটকিমারা গ্রামবাসী মহিষরারা গ্রামের মানুষের ওপর হামলা চালায়। হামলা প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ এসে গুলি ছোড়ে। এতে মহিষমারা গ্রামের পুরুষ ও নারীসহ ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এনায়েত হোসেন বলেন, “শ্রীপুর এবং ভেদুরিয়ার মধ্যবর্তী একটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজের দুই প্রান্তের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। কিন্তু বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছিলেন মেহেন্দিগঞ্জের শ্রীপুরের রুবেল কাজী। এতে বাধা দেয় ভোলার ভেদুরিয়ার বাসিন্দা।”

ওসি বলেন, “বৃহস্পতিবার ঘটনার সময় রুবেল কাজী স্থানীয় অসংখ্য নারী-পুরুষ নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বরিশাল এবং ভোলা জেলা পুলিশের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা জমি দখলের জন্য অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগান থেকে ২৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। যতটুকু যেনেছি তাতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। তবে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে রুবেল কাজী বলেন, “ঘটনার সময় আমি মেহেন্দিগঞ্জে ছিলাম না। আমি বরিশালে অবস্থান করছিলাম। পূর্বেও বরিশাল-ভোলার সীমানা নিয়ে একাধিকবার হামলা সংঘর্ষ ঘটেছে। কিন্তু এবার গুলি বর্ষণের ঘটনা প্রথম। পুলিশ বিনা উস্কানিতে গ্রামবাসীর ওপর গুলি করেছে।”

রুবেল কাজী আরও বলেন, “যেখানে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব অন্তত দুই কিলোমিটার। ভোলার পুলিশ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মহিষমারী গ্রামের মধ্যে ঢুকে নারী-পুরুষের ওপর অতর্কিত হামলা এবং গুলিবর্ষণ করেছে।”

রুবেল কাজী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি।

About

Popular Links