Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তিন ছেলেই স্বচ্ছল, স্ত্রীদের ইন্ধনে গোয়ালে বাঁধা থাকতেন মা

অনাহারে রেখে ৮৫ বছর বয়সী আয়েশা বেগমকে ছেলে ও পুত্রবধূরা করতো মারধর। প্রতিবেশীরা খাবার দিতে গেলেও তাদের সঙ্গে করা হতো অসৌজন্যমূলক আচরণ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের হতভাগ্য বৃদ্ধা আয়েশা বেগম (৮৫)। তার তিন ছেলের প্রত্যেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কিন্তু দেখাশোনা করা তো দূরের কথা, বৃদ্ধা মাকে তারা রাখত গোয়ালঘরে। ঠিকমতো তাকে খাবারও দেওয়া হতো না, করা হতো মারধর।

মাসের পর মাস এমন অবস্থায় গুমরে কাঁদছিলেন আয়েশা। খবর পেয়ে সোমবার (১৩ জুন) পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আয়েশা বেগমের অভিযোগকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তার দুই ছেলে এবং এক পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আয়েশা বেগমের বড় ছেলে মো. কলম মিয়া (৫১), মেজো ছেলে মো. মোস্তফা ওরফে মস্তা (৪৫) এবং প্রবাসী ছোট ছেলে চানু মিয়ার স্ত্রী মর্জিনা (৩২)। 

তারা সবাই উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্য চারিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছেলে এবং পুত্রবধূরা ওই বৃদ্ধাকে ঠিকমতো খাবার দিতেন না। এমনকি, প্রতিবেশীরা কেউ খাবার দিলেও পুত্রবধূরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, আয়েশা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। দীর্ঘ অযত্ন-অবহেলায় অচল হয়ে পড়লে একপর্যায়ে বড় ছেলে কলম মিয়া তার দেখভালের দায়িত্ব নেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই তাকে শিকলে বেঁধে গোয়ালঘরে রাখা হয়। কলম মিয়ার স্ত্রী বিদেশে থাকতেন। ফিরে আসার পর তিনিও শাশুড়ির ওপর অত্যাচার শুরু করেন। 

দফায় দফায় তার ওপর চলে ছেলে ও পুত্রবধূদের নির্যাতন। ছোট ছেলে চানু বিদেশে যাওয়ার পর তার স্ত্রীও আয়েশাকে অত্যাচার করে একই গোয়ালঘরে থাকতে বাধ্য করেন প্রায় ছয় মাস।

গত সাত দিন ধরে মেজো ছেলে মোস্তফা ওরফে মস্তা বৃদ্ধা মাকে আটকে রাখেন তার গোয়ালঘরে। প্রতিবেশী কয়েকজন নারী দেখতে গেলে ওই বৃদ্ধা তাদের কাছে খাবার চান। তারা দোকান থেকে রুটি এনে খাওয়াতে গেলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয় ছেলেদের।

বিষয়টি জানাজানি হলে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্যা পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এরপর কলম, মস্তা ও মর্জিনাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে আয়েশা বেগম আছেন সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যার তত্ত্বাবধানে। তার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরেক ছেলের স্ত্রী বিলকিস আক্তারকে।

এ ব্যাপারে আয়েশা বেগমের বড় ছেলে কলম মিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিংগাইর থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, “বৃদ্ধা মাকে অবহেলার দায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।  সমাজে যাতে এমন জঘন্য নৈতিক অবক্ষয় না ঘটে সেদিকে সবার সচেতন হওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ বলেন, “আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”


About

Popular Links