Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রী: দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে

পদ্মা সেতুকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে বলেও বুধবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ০১:৫৫ পিএম

প্রয়োজনে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ২১ জেলার মানুষ সংযুক্ত হচ্ছে। আরও ১৬ জেলার মানুষ বেশি উপকৃত হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু (দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া) নির্মাণ হলে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে বিভিন্ন সেতু নির্মাণ করে সংযোগ তৈরি করেছি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে দ্বিতীয়টার জন্য আয়োজন রয়েছে। তবুও আগে দেখতে হবে, এটার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? সেটা বিবেচনা করে করা হবে। এখনই এত বড় একটা কাজ শেষ করে, আবার আরেকটা এখনই শুরু করতে পারব না।”

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এখন জায়গাটা খুব বড় না, বড় সেতু না। কাজেই ভবিষ্যতে যখন প্রয়োজন হবে মনে করব। আগেই বলেছি কোনো প্রয়োজন হলে সেটা থেকে রিটার্ন কি আসবে, সেটাও আমাকে দেখতে হবে। সেটা দেখেই প্রকল্প নেব। আমাদের এটা মাথায় আছে। এখন এত বড় খরচ করেছি, সেটার টাকা আগে উঠুক। তারপরে দ্বিতীয়টা করব।”

বুধবার (২২ জুন) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতুকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক গড়ে উঠবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে ওই অঞ্চলে দেশি-দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগের একটা বড় লিংক। তাই আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই সেতুর ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া পদ্মার দুই পাড়ে পর্যটন শিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে।”

তিনি আরও বলেন, “২০১২ সালের ৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেই। আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পদ্মা সেতুর জন্য অর্থ না নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আপনারা দেখেছেন, আমাদের দেশের একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী এবং অর্থনীতিবিদরা কীভাবে মনগড়া সমালোচনায় মেতে উঠেছিল।”

সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সেতু নির্মাণ করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের গুণগত মানে কোনও আপস করা হয়নি। এই সেতু নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণে। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত এই সেতুর পাইল বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ বিবেচনায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতায় গিয়ে এর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু আমরা আবার ক্ষমতায় এসে সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করলাম। তারপর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এর কাজ শেষ করেছি। দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের সহযোগিতার জন্যই আজ পদ্মা সেতু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।”

একজন ব্যক্তির ষড়যন্ত্রে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগে তুলে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। দেশের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও নানা দলের নেতারা এর বিরোধিতা করে এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ ধরনের কৃতকর্মের জন্য তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সময়ই বলে দেবে।”  

এছাড়া পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের ক্ষমা চাওয়া উচিত কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা তাদের বিবেকের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলব না।”

এ বছরই মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল উদ্বোধন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গৃহীত মেগাপ্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজও যথারীতি এগিয়ে যাচ্ছে।”

সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বন্যা কবলিত অঞ্চলে শুকনো ও রান্না করা খাবার, স্যালাইন ও ওষুধ বিতরণ করছি। বন্যার ফলে যেকোনো রোগের মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত। সিলেট অঞ্চলে বন্যা মোকাবিলায় ৩০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে। সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলারও ব্যবস্থা রয়েছে।”

আওয়ামী লীগ সরকারকে জনগণের সরকার বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ বছরই মেট্রোরেল এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল উদ্বোধন করা হবে। ঢাকায় এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গৃহীত মেগাপ্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজও যথারীতি এগিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক ধরনের সুযোগ নিয়েই ক্ষমতায় আসা যায়। কিন্তু আমি কোনো সুযোগ নেইনি। সুযোগ নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী হইনি। যেনতেন ভাবে প্রধানমন্ত্রী হওয়া আমার লক্ষ্য ছিল না কখনও। আমি নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছি। এসে মানুষের জন্য উন্নয়ন করেছি।”

About

Popular Links