Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আজ ইতিহাস লেখার দিন

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই খুলবে দখিনা দুয়ার

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:৪৫ পিএম

আজ ইতিহাস লেখার দিন। আজ বাঙালির অর্জনের মুকুটে আরেকটি পালক যুক্ত হবার দিন। আজ দক্ষিণের নতুন দুয়ার উন্মোচনের দিন। আজ উত্তাল পদ্মার ভয়াল গ্রাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মানুষের জয়যাত্রা শুরুর দিন। আজ ২৫ জুন। আজ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন।

এখন শুধু সময় গণনা। সকাল দশটায় বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে খুলবে পদ্মা সেতু। ইতোমধ্যে সেতু উদ্বোধনের সব আয়োজন শেষ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সকালে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে প্রায় পাঁচ হাজার অতিথি অংশগ্রহণ করবেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন দেশের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ। সুধী সমাবেশের পর পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর টোল প্লাজা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং অতিথিদের গাড়ি চলাচলের মাধ্যমে উদ্বোধন হবে পদ্মা সেতুর।

সেতু উদ্বোধনের পর দুপুরে মাদারীপুরের শিবচর বাংলাবাজার ঘাটে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ১২টার পর সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও ভোর থেকেই এখানে ভিড় জমিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো মাদারীপুর জেলায় উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর ২৬ জুন ভোর থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতুটি। 

পানি প্রবাহের দিক দিয়ে পৃথিবীতে আমাজন নদীর পরই অবস্থান পদ্মার। প্রমত্তা এই নদীতে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের সাফল্য। এই সেতু রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশকে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সঙ্গে যুক্ত করবে।

মূল সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। উদ্বোধন হবে ২০২২ সালের ২৫ জুন। সেই হিসেবে, পুরো সেতু নির্মাণে সময় লেগেছে মোট ২ হাজার ৭৬৮ দিন। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কারণে কাজের গতি কমলেও একদিনের জন্যও কাজ থেমে থাকেনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজে ২০টি দেশের মানুষের মেধা জড়িয়ে আছে। দেশগুলো হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, ডেনমার্ক, ইতালি, মালয়েশিয়া, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, তাইওয়ান, নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ।

ব্রিটিশ নাগরিক রবিন শ্যামের নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর বিশদ নকশা করা হয় হংকংয়ে। নকশা প্রণয়নে ব্যবস্থাপক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কেন হুইটলার।

সেতুর নির্মাণকাজের তদারকির নেতৃত্ব দেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক রবার্ট জন এভস। আর নদীশাসনের নকশা প্রণয়নে ছিলেন কানাডার ব্রুস ওয়ালেস। এ কাজে আরও ছিলেন জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরাও। 

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ১৩৮ ব্যক্তি। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালকসহ বড় পদে আছেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে মো. শফিকুল ইসলাম সড়ক ও জনপদের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে থাকাকালে ২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক হন। তার অধীনে ঠিকাদার নিয়োগ ও নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী বছর জুন পর্যন্ত তিনি পরিচালক হিসেবে থাকছেন। 

প্রকল্পের উপপরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে রয়েছেন সওজের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান।

পদ্মা সেতুতে ১০টি দেশের বিপুল উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কিছু না কিছু উপকরণ ব্যবহার হয়েছে আরও প্রায় ৫০টি দেশের।

বাংলাদেশের বাইরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি উপকরণ চীন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, লুক্সেমবার্গ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হয়েছে। 

মূল সেতুতে প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার টন স্টিলের প্লেট লেগেছে, যার পুরোটাই এসেছে চীন থেকে।

About

Popular Links