Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোয়েন্দা প্রতিবেদন: চাঁদাবাজি না কমলে কোরবানির পশুর দাম আরও বাড়বে

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোরবানির পশু পরিবহনে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি হয়, স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটের মালিকেরা অযৌক্তিক হাসিল আদায় করে

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ১১:২২ এএম

পথে পথে চাঁদাবাজি, হাটে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের ফলে আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় পশুর দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং কোরবানির পশু খাদ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়াও এ ক্ষেত্রে হতে পারে প্রধান নিয়ামক। অতি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ জনগণকে অতিরিক্ত মূল্যে কোরবানির পশু কিনতে হবে।

গত ২৩ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিবেদনে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়েও কিছু সংকটের কথা বলা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ মাসে বাজারে সব ধরনের পশু ও পোলট্রি খাদ্যের দাম ৩০-৪০% পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে পশু পালনে আগের চেয়ে খামারিদের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় কোরবানির পশুর দাম বেড়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বাজার তদারকির মাধ্যমে পশুখাদ্যের যোগান নিশ্চিত করা এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে না রাখলে কোরবানির বাজারে পশুর সংকট দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কোরবানির পশু পরিবহনে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি হয়, স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটের মালিকেরা অযৌক্তিক হাসিল আদায় করে। এসব বন্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার কথা জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা দ্রুতই একটা বৈঠক করব। একজন উপসচিব প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছেন। তবে এবার পশু সংকট হবে না, সেটা মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে তো আগেই বলা হয়েছে। অন্যগুলো কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে সেগুলো আমরা দেখছি। পাশাপাশি চাঁদাবাজিসহ অন্য বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে।  

তিনি আরো বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চামড়ার কথাও বলা হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে সংকট প্রতিরোধের জন্য আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়কে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছি। চামড়া পরিবহনেও যেন সংকট না হয় সেটাও আমরা দেখব।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, করোনাভাইরাস মহামারি, বিভিন্ন দেশে পশুখাদ্যের কাঁচামালের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সামগ্রিকভাবে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে। পশুখাদ্যের প্রধান উপাদান হচ্ছে গম, ভুট্টা, ধানের কুড়া, সয়ামিল, সরিষার খৈল, আটা-ময়দা প্রভৃতি। বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে বেশি ভুট্টা আমদানি করেন। আবার গম আমদানিতেও এ দুটি দেশের ওপর নির্ভরতা রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারির পরে দেশ দুটি থেকে আমদানি এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। ফলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন খরচও। যে কারণে পশুখাদ্যের উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য এক কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যা গত বছর ছিল এক কোটি ১৯ লাখ। তার মধ্যে গত বছর প্রায় ৯১ লাখ গবাদিপশু কোরবানি হয়। এ বছর চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় গত বছরের চেয়ে কোরবানি বেশি হবে বলে আমরা আশা করছি। এবার কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে গরু-মহিষ রয়েছে ৪৬ লাখ, ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৭৫ লাখ এবং অন্যান্য পশু রয়েছে ১৪ হাজার। ফলে পশুর সংকট হবে না।

চাঁদাবাজিসহ হাটগুলোতে অতিরিক্ত মাশুল নেওয়ার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শাহজাদা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকার বৈঠক করেছি। পশুবাহী পরিবহন যেন দ্রুত চলাচল করতে পরে সে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরে বৈঠক করেছি। সেখানে প্রাণীসম্পদ মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমি পশুবাহী ট্রাক দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছি। এসব ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো খামার থেকে যদি কেউ পশু কেনেন, তাহলে তাদের কাছ থেকে কোনো মাশুল আদায় করা যাবে না। আমরা যে হাটে পশু নিতে চাইবো, সেখানে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অনেক ইজারাদার জোর করে তাদের হাটে খামারিদের ট্রাক নিয়ে যান। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পশুবাহী ট্রাকগুলো টোলমুক্ত করার প্রস্তাবও আমি দিয়েছি।

কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণ নিয়ে শাহ ইমরান বলেন, দাম তো বাড়বেই। গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম প্রায় ৪০% বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবার গরুর দাম এমনিতেই ১০-১৫% বাড়বে। আর চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য খরচ বাড়লে তো পশুর দাম আরও বেড়ে যাবে।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, কোরবানির পশুর জন্য আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। অন্যান্য বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত আছে। ফলে কোরবানির জন্য কোনো রকম সংশয়, সংকট বা আশঙ্কার কারণ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে পরিপূর্ণ প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে সিলেট-সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় গবাদিপশু কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে গবাদিপশুর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

About

Popular Links