Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৩০০ বছরের পুরনো গাছটির সঙ্গে ভেঙেছে হাজারো ভক্তের হৃদয়

স্বাভাবিকভাবেকই এ ঘটনা ভক্তদের কাছে দুঃখজনক। আবার অনেকে এ ঘটনাকে ‘বিপদের পূর্বাভাস’ বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২২, ০৮:৪৯ পিএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার পারকোনা গণেশ পাগল সেবাশ্রমের বহু পুরনো একটি বট গাছ ভেঙে পড়েছে। এই গাছ যুগের পর যুগ ধরে সুশীতল ছায়া দিয়েছে পরম মমতায়। বহু সাধক ও ভক্তের প্রার্থনার স্বাক্ষী এই বৃক্ষের বয়স ৩০০ বছর বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সোমবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় বট গাছটি বিকট শব্দে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। তবে এ সময় গাছের তলায় থাকা সেবাশ্রমের একটি আটচালা ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে  যায়। তবে ঘটনাস্থলে কোনো মানুষ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই মহীরূহ সেবাশ্রমের প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে অবস্থান করছিল।

এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত গতিতে। মঙ্গলবার থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা গাছটিকে “শেষবারের মতো” দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন আশ্রমে।

স্বাভাবিকভাবেকই এ ঘটনা ভক্তদের কাছে দুঃখজনক। আবার অনেকে এ ঘটনাকে “বিপদের পূর্বাভাস” বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।   

মঙ্গলবার সকাল থেকে সেবাশ্রমের লোকজন ভেঙে পড়া গাছটি অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। এ কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। এখনকার গতিতে কাজ এগোলে সম্পূর্ণ গাছটি সরাতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা গণেশ পাগল সেবাশ্রম মন্দির কমিটির সভাপতি মাইকেল হিরোহিত বিশ্বাসের। 

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “মহামানব গণেশ পাগল তার জীবদ্দশায় পারকোনার এই বটগাছের নিচে বসে সাধনা করতেন। দেহত্যাগের পরে এখানে তার নামে আশ্রম গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এখানে প্রতি বছরের ২১ পৌষ এই বট গাছের নিচে বাৎসরিক মহোৎসবের আয়োজন করে আসছি।” 

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বালা বলেন, “মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগল ১২৫৫ বঙ্গাব্দে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পোলসাইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি কোটালীপাড়ার উপজেলার উনশিয়ার ভট্টের বাগানে এসে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। এরপর তিনি পারকোনার এই বটগাছের নিচে এসে ঈশ্বরের সাধনা ও মানবসেবায় জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। এছাড়া  অনেক সাধক মহাপুরুষ ও ভক্তরা এখানে প্রার্থনা ও সাধনা করেছেন। ক্লান্ত পথিক এই  বট গাছের ছায়ায় বসে ক্লান্তি জুড়িয়েছেন। এছাড়া বছরের পর বছর গাছটি সুশীতল ছায়া দিয়েছে। গোটা আশ্রমকে আগলে রেখেছিল এই বট গাছটি। মহামানব গনেশ পাগল এই গাছের তলায় বসেই প্রার্থনা করেছেন। তাই স্থানীয়রা বিশ্বাস করতেন গাছটি তাদের পরম বান্ধব। এটি ভেঙে পড়ায় তারা মর্মাহত।”

গাছটি ভেঙে পড়ার খবর শুনে দেখতে এসেছেন কোটালীপাড়া উপজেলার তারাকান্দর গ্রামের গৃহবধূ অঞ্জনা রায়। 

তিনি বলেন, “আট বছর ধরে আমি এখানকার মহোৎসবে আসি। এই বট গাছটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের স্মৃতিবিজড়িত। অলৌকিক ঘটনাও রয়েছে এ বটগাছকে ঘিরে। তাই শেষবারের মতো এই বটগাছটি দেখতে এলাম। আবার অনেকে এটিকে বিপদের পূর্বাভাস বলেও মনে করছেন।”

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা  এফ আলম বলেন, “গাছটি কাটার পরে গোড়ার রিং দেখে এর আনুমানিক একটি বয়স নির্ধারণ করা যায়। প্রাথমিকভাবে গাছটি দেখে ২০০ বছরেরও বেশি বয়স বলে মনে হচ্ছে। গাছের বয়স বেশি হলে প্রতি বছরই গাছের কাণ্ডের অবক্ষয় ঘটে। এতে গাছ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে গাছটি ভেঙে পড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে।”

About

Popular Links