Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাদারীপুরে ‘ফির হেরা ফেরির’ চেয়েও দ্রুত মুনাফার প্রলোভন!

সম্প্রতি ‘অ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল’ নামের একটি অনলাইন মার্কেট প্লেসে টাকা বিনিয়োগ করলে ২১ দিনে দ্বিগুণ টাকা আয় হবে বলে প্রচারণা চালানো হয়

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২২, ১১:৪৩ পিএম

বলিউড সিনেমা “ফির হেরা ফেরি”-তে দেখানো হয়েছিল “২৫ দিনে টাকা দ্বিগুণ” করার কথা বলে প্রতারণার ঘটনা। তার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে মাত্র ২১ দিনে অর্থ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়েছিল মাদারীপুরের শিবচরে ‘‘অ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল’’ নামের একটি অনলাইন মার্কেট প্লেস। এভাবে তারা হাজারো মানুষের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে শিবচর থানা পুলিশ। 

সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্ত কামাল হোসেন (৪২) ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এই দুইজনসহ আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শিবচর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার ওই দম্পতিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ব্রত কুণ্ডু।

শিবচর থানা ও ভুক্তভোগী সূত্রের বরাতে অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানায়, সম্প্রতি ‘‘অ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল’’ নামের একটি অনলাইন মার্কেট প্লেসে টাকা বিনিয়োগ করলে ২১ দিনে দ্বিগুণ টাকা আয় হবে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে শিবচরের প্রায় ১২ হাজার মানুষ প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমে বেশ কয়েকজনকে ২১ দিনে দ্বিগুণ টাকা ফেরতও দেয় চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন। 

বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ও বিনিয়োগের অর্থ বেড়ে গেলে ৭ জুলাই থেকে হঠাৎ সাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সন্দেহ হলে কয়েকজন বিনিয়োগকারী সোমবার সকালে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক সিদ্ধার্থ ব্রত কুণ্ডুসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে আটক করেন। সোমবার সন্ধ্যায় জাকির হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করে শিবচর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। 

তবে মামলার বাদী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সাহিন বিন আনিছ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘‘আমি প্রায় ২০ দিন আগে একজনের কথায় ৩০ হাজার টাকা জমা দেই। পরে আমার লাভ হয় প্রায় ৪০ হাজার। আমার মোট ৭০ হাজার টাকা লস হয়েছে।’’ আরও ৭-৮ জনকে বিনিয়োগ করিয়েছেন বলে জানান তিনি।  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ব্রত কুণ্ডু বলেন, এই চক্রটিসহ যারা অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। ‘‘অ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল’’-এর মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

About

Popular Links