Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঈদের ছুটির পর প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে

কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে 

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ০৪:০০ পিএম

বর্ষাকালে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন নিয়ে সবারই শঙ্কা ছিল। এ কারণে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আশানুরূপ পর্যটক ছিল না। কিন্তু ঈদের ছুটির পর লাখো পর্যটকের আগমনে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। বিকেলের মধ্যেই পুরো সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে স্বস্তির সুবাতাস বইছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, ভ্রমণপিপাসুরা সমুদ্রসৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে সমুদ্রস্নান ও আনন্দ মেতেছেন। বালিয়াড়িতে বসে শিশুর সঙ্গে খেলাতে মেতেছেন বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। আবার অনেকেই প্রিয় মুহুর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। আর পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্যেও নেওয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির নেতা ও পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের পবিত্র ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে পর্যটকদের আগমন আশানুরূপ ছিল না। কিন্তু ঈদের ৪ দিন পর কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে।

ঈদের ছুটির পর কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের একাংশ/ঢাকা ট্রিবিউন

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে নিয়োজিত মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ঈদের দিন পর্যটকের আগমন ছিল হাতেগোনা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেখছি দলে দলে প্রতিটি পয়েন্ট দিয়ে পর্যটকরা সাগরের নোনাজলে নামছে।

তিনি আরও বলেন, উত্তাল সমুদ্রে গোসলে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টাওয়ারে বসে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বালিয়াড়ি টহলরত কর্মীরা সর্বদা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।

কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর এসোসিয়েশন (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রের শহর কক্সবাজারের প্রতি আসক্তি সহজে কমার কথা না। কিন্তু সবদিকে জীবনধারণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হয়ত অনেকে মাঝে মাঝে অর্থ সংকুলানে ব্যর্থ হন। এবারের ঈদে দেশের অন্যতম নতুন পর্যটনকেন্দ্র পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীরা বেশি ঘুরেছেন।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌখিম খান বলেন, ঈদের প্রথম ৪ দিন খুবই হতাশায় কেটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পর্যটক উপস্থিতি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রুম বুকিংও। আমাদের ৭০% রুমে পর্যটক উঠেছেন। শুক্রবারে আরও কিছু পর্যটক আসবে বলে আশা করা যায়। সব হোটেলেই কমবেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

ঈদের ছুটির পর কক্সবাজারে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা/ঢাকা ট্রিবিউন

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজগুলোতে প্রতি রাতে ১ লাখ ২০-৩০ হাজার পর্যটক অবস্থান করতে পারে। গত ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে ১১ লাখের বেশি পর্যটক এসেছিলেন। তখন হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় ৫০০-৬০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হয়েছিল। 

তিনি আরও বলেন, ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে বলতে গেলে কক্সবাজারে তেমন পর্যটক আসেননি। কিন্তু বুধবার থেকে ৫০ হাজারের বেশি পর্যটক কক্সবাজার এসেছেন। সামনের দিনগুলোতে কক্সবাজারে আরও পর্যটক আসবেন আমাদের আশা রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৈকত, হোটেল মোটেল জোন ও পর্যটন স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হয়েছে। আশা করি, কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা নিরাপদে সব জায়গায় ঘুরতে পারবেন।

About

Popular Links