Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফ্লাইট আটকে থাকার ঘটনায় কলকাতার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষোভ

কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে যাত্রীদের নামানোর জন্য কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২২, ০৬:২৯ পিএম

কলকাতা বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট তিন ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনায় এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’র (এএআই) কাছে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়াললাইন্স।

ল্যান্ডিং গিয়ারে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ১৯ জুলাই বিমান কর্তৃপক্ষ খাবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় যাত্রীদের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

মেরামত কাজের সময় বিমানের বিদ্যুৎ বন্ধ রাখায় যাত্রীরা অন্ধকার ও গরম পরিবেশে সময় কাটাতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র তাহেরা খন্দকার বলেন, “ল্যান্ডিং গিয়ার মেরামত করার সময় বিমানটির যাত্রীদের নামতে দেওয়ার জন্য আমরা কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম । তারা অনুমতি না দেওয়ায় আমরা যাত্রীদের নামাতে পারিনি। তাই আমরা তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারিনি।”

ডিরেক্টরেট অব ফ্লাইট অপারেশনস কর্মকর্তাদের মতে, যদি কোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট এক বা দুই ঘন্টা বিলম্বিত হয়, তবে ওই কর্তৃপক্ষকে সেই যাত্রীদের বিমান থেকে নামার অনুমতি দিতে হবে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিমানের ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টরেটের কর্মকর্তারা জানান, কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কখনোই কোনো এয়ারলাইন্সকে গ্রাউন্ডেড সময়ে যাত্রীদের নামানোর অনুমতি দেয়নি।

সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরে একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দুটি বিদেশী এয়ারলাইন্সও একই অভিযোগ করেছে।

কলকাতা বিমানবন্দরের বাংলাদেশ বিমানের সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, একজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টার্মিনালে নিয়ে যেতে পারেননি তারা।

কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর সেই যাত্রীকে বোর্ডিং ব্রিজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে, কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সেখানে যাত্রীদের নামার কোনো ব্যবস্থা নেই; তবে এরকম জরুরি পরিস্থিতিতে অনুরোধ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এএআই দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন ওই ফ্লাইটের  পাইলট বা কলকাতা বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বাংলাদেশ বিমানের কোনো কর্মকর্তা যাত্রীদের নামানোর জন্য কোনো অনুরোধ করেননি।

এতে আরও বলা হয়েছে, কলকাতা বিমানবন্দরের পরিচালক শুক্রবার বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজারের সঙ্গে ফোনে বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে তিনিও জানান যে, যাত্রীদের নামানোর জন্য সেদিন তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি।

তারা সেই দিনের চার ঘণ্টার ডিজিটাল ডেটা পর্যালোচনা করেও এ ধরনের কোনো অনুরোধের প্রমাণ পায়নি বলে দাবি করেছে।

বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের স্টেশন ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সময় ঢাকায় থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। এছাড়া, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিমাবন্দরকে জানানোর দায়িত্ব এবং গ্রাউন্ড ডিউটি ম্যানেজারদের নয় বলেও জানানো হয়।

প্রতিবেদনটিকে "ভিত্তিহীন এবং ভুয়া" বলে উল্লেখ করে ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টরেটের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, "তাদের (কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় আমরা যাত্রীদের বিমান থেকে নামতে দিতে পারিনি। একই কারণে যাত্রীদের খাবারসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করা যায়নি।” 

তবে এএআই জানিয়েছে, বিমানবন্দরে খাবারের ব্যবস্থা থাকায় সেখান থেকেই সেটি সরবারহের সুযোগ ছিল।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিমান বিমানবন্দরে অনুমোদিত ক্যাটারিং সার্ভিস থেকে অর্থের বিনিময়ে খাবার অর্ডার করার সুযোগ ছিল।

তারা সেদিনের ফ্লাইটের বিলম্বকে "রুলিং ডিলে" হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া, এই ত্রুটি সারতে কম সময় লাগার কথা ছিল, তবে স্থানীয় প্রকৌশলীদের সহযোগিতার পরও তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স টাকা বাঁচানোর চেষ্টায় খাবারের অর্ডার দেয়নি।

এদিকে, গত ১৯ জুলাই বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সব যাত্রী নামিয়ে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমতি না দেওয়ায় এবার তা সম্ভব হয়নি।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন পাইলট বলেন, “আমরা যদি অনুমতি পেতাম তবে যাত্রীদের খাবার এবং অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে পারতাম। সৌভাগ্যক্রমে, আমরা যাত্রীদের নিরাপদে ঢাকায় নিয়ে এসেছি।” 

উল্লেখ্য, ঢাকাগামী বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরে ১৫০ যাত্রী নিয়ে তিন ঘণ্টা আটকে ছিল। পরে ১৯ জুলাই ১টা ৪২ মিনিটে ফ্লাইটটি নিরাপদে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

About

Popular Links