Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভোলায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশত

বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবী, পুলিশ বিনা কারণে বিএনপির মিছিলে হামলা করে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আব্দুর রহীম মারা যান

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ১০:২৩ পিএম

সারাদেশে লোডশেডিং ও জ্বালানি অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে বাধা দেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আব্দুর রহিম নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন।

রবিবার (৩১ জুলাই) সকালে মহাজনপট্টি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে দলটি। এসময় এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবী, পুলিশ বিনা কারণে বিএনপির মিছিলে হামলা করে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আব্দুর রহীম মারা যান। আহত হন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে জেলা ছাত্রদল সভাপতি গুরুতর আহত নুরে আলমসহ ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আহতদের মধ্যে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবী করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর। দুপুর ২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোলা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার জন্য পুলিশকে দায়ী করেন।

গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “তেল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আমরা রবিবার সকালে ভোলা জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করতে গেলে বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার উপর পুলিশ বাঁধা সৃষ্টি করে।”

তিনি বলেন, “পুলিশ বিনা কারণে ভোলা বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে গুলি, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহীম মারা যায়। হামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই এ ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চায় না। পুলিশ নিজেরাই পরিস্থিতি ঘোলা করছে।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি চান।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরহাদ সরদার বলেন, “সমাবেশ শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু সমাবেশ শেষে মিছিল করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে পড়ে। পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল নিক্ষেপ শেষে গুলি চালায়। এতে ১০ জন পুলিশ এবং বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। একজন মারাও যায়।”

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ওসি আরমান হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীরা অনুমতি না নিয়ে মিছিল করায় আমরা তাদের বাধা দেই। কিন্তু নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে শুরু করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরজুড়ে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।”

About

Popular Links