Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আমদানি কমায় বেড়েছে ফলের দাম

ডলার সংকটের কারণে ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে সম্প্রতি ২০% নিয়ন্ত্রক শুল্ক আরোপ করেছে এনবিআর

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ০৪:০৮ পিএম

অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় পর দেশের বাজারে কমতে শুরু করেছে আমদানিকৃত ফল।

সাধারণত আম ও কাঁঠালের মৌসুম শেষ হলে আমদানিকৃত ফলই বছরের বাকি সময়ের চাহিদা পূরণ করে।

তবে এ বছর আপেল, আঙুর, কমলা, নাশপাতিসহ আমদানি করা ফল বাজারে খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

যদিও আনারস, পেয়ারা, কলার মতো কিছু দেশীয় ফল এখনও পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলার সংকটের কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০% নিয়ন্ত্রক শুল্ক আরোপ করেছে।

এছাড়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

রাজধানীর শীর্ষ ফল বাজারের আমদানিকারকরা জানান, নিয়ন্ত্রক শুল্ক আরোপের পর ফলের আমদানি অন্তত ৩০% থেকে ৩৩% কমেছে, যার ফলে তাদের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে।

আমদানি করা ফলের দাম ২০% বা তার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যা ফলের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বলছেন, লাভের পরিমাণ কমিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন তারা।

প্রতিবছর এই সমযয়ে বাজার সাধারণত বিভিন্ন ধরনের আপেলে সয়লাব থাকে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে মাত্র দুই বা তিন ধরনের আপেল দেখা যাচ্ছে, যেগুলোর দাম কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

গ্রীষ্মকালে আরেকটি জনপ্রিয় আমদানীকৃত ফল কমলার দাম সাধারণত কম থাকে,তবে এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ২৭০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বেশিরভাগ মানুষের নাগালের বাইরে।

অন্যান্য ফলের মধ্যে খেজুর প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কয়েকটি ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কম দামি সবুজ আঙুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায়। অল্প কিছু দোকানে দামি কালো আঙুর দেখা গেলেও লাল আঙুর বাজারে নেই বললেই চলে।

এছাড়া প্রায় সব ধরনের আমদানি করা ফলের দাম কেজিতে ১০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের আমদানি কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে স্থানীয় ফল আধিপত্য বিস্তার করছে।

কম প্রয়োজনীয় এবং বিলাসবহুল পণ্য আমদানি সীমিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহীত পদক্ষেপের ফলে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমদানি করা ফলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হাসান জানান, বাজারে আমদানি করা ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম বাড়ছে।

তিনি বলেন, “বেশি দামে ফল বিক্রি করলেও দাম বৃদ্ধির ফলে লাভ কমেছে, বিক্রিও অর্ধেকের বেশি কমেছে।”

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে ফলের ওপর ২০% নিয়ন্ত্রণ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া, আমদানিকারকদের ১০০% মার্জিনসহ ক্রেডিট লোন (এলসি) খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফলে আমদানি প্রায় ৩০% থেকে ৩৩% কমেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ফলের দাম প্রায় ২০% বা তার বেশি বেড়েছে।”

সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমদানিকারকদের কাছে ১০০% মার্জিন দিয়ে এলসি খোলার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” 

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল করিম বলেন, “ফলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপের কারণে ব্যবসায়ীরা বাজার হারাচ্ছেন।”

মাসুদুর রহমান নামে কারওয়ান বাজারের এক ক্রেতা জানান, কমলা, আঙুর, আপেল, নাশপাতিসহ প্রায় সব ফলের দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বা তার বেশি বেড়েছে, তাই খাওয়া কমাতে হয়েছে।

২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৬ লাখ ৮৮ হাজার কেজি আমদানিকৃত ফল খায়।

ফলের দৈনিক খুচরা বাজারের মূল্য ২৭ কোটি টাকা এবং দেশের খুচরা পর্যায়ে বার্ষিক ফলের বাজারের আনুমানিক আকার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

সাধারণত স্থানীয় ফলের সরবরাহ সীমিত থাকায় সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি করা ফলের চাহিদা বেশি থাকে।

About

Popular Links