Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফরিদপুরে পৌর মেয়রের ভাইয়ের মারধরে সাংবাদিক আহত

পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ১২:৪৩ এএম

ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় পৌর মেয়রের আপন ছোট ভাই ও তার অনুসারীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম নামে এক সাংবাদিক। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার স্থানীয় পরিবহন বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ঢাকা টাইমস পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক। সেই সঙ্গে তিনি আলফাডাঙ্গার পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিও।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রমিজ নামের এক যুবক আলফাডাঙ্গায় রাজধানী পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট কিনতে যান। তিনি ঢাকার একটি টিকিটের দাম পরিশোধ করে বাসে উঠেন। বাস ছাড়ার আগ মূহুর্তে ক্যাশ কাউন্টার থেকে বলা হয় রমিজ টিকিটের টাকা দেননি। তাই তাকে ঢাকায় যেতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি জানিয়ে মুজাহিদের সহযোগিতা চান রমিজ।

মুজাহিদ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলতেই কাউন্টারের ম্যানেজার এবং আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র সাইফুর রহমান সাইফারের ছোট ভাই জাপান মোল্যা ও তার সহযোগিরা মুজাহিদের ওপর চড়াও হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মুজাহিদকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় পাশে থাকা লোকজন এগিয়ে এলে জাপান ও সহযোগিরা তাদের ওপরেও চড়াও হন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুজাহিদুল ইসলাম নাঈমকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুরে পাঠান। বিকেল ৫টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন ঢাকায় পাঠানো হয়। 

আহত সাংবাদিক মুজাহিদ বলেন, “জাপান মোল্যা ও তার পাঁচ-ছয় সহযোগী হঠাৎ করে আমার ওপর হামলা চালায়। লোহার রড, ক্রিকেট খেলার স্টাম্প, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাকে পেটানো হয়। এ সময় স্থানীয়রা হামলাকারীদের হাত থেকে আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপরেও চড়াও হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।”

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার বলেন,“আমি আলফাডাঙ্গা থেকে সকালে রামপালে এসেছি। তাই এখনও বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

সাইফুর রহমান সাইফার জাপান মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাজধানী পরিবহনের কাউন্টারে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকেন্দার আলম বলেন, “আমি ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মুজাহিদকে দুর্বৃত্তরা লোহার রড, কাঠের বাট্যাম দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার হাত ও পায়ে বেশ জখম হয়েছে। পরে এক্স-রে করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠিয়েছেন৷”

মুহাজিদকে হত্যার উদ্দেশেই এভাবে মারধর করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “তাকে (মুজাহিদ) মেরে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা এগিয়ে আসায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে।”

এদিকে, স্থানীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সাংবাদিকরা বলছেন, এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিকরা।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছি।”

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) সুমন কর বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত জাপান মোল্যাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, “ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে এটা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে। সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

About

Popular Links