Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান: আমি শেখ হাসিনার কষ্ট বুঝতে পারি

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাচলেটের বাবা ১৯৭৪ সালে চিলিতে কারাগারে নির্যাতনে মারা যান

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৮:৩৫ পিএম

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কষ্ট বুঝতে পারেন। কারণ, ১৯৭৪ এবং ১৯৭৫ সালে তারা দুজনই একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।

মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, "আমি তার তার কষ্ট বুঝতে পারি। কারণ, আমরা দুজনই একরকম পরিস্থিতির শিকার। আমার বাবাও ১৯৭৪ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী তার বাবাকে হারিয়েছেন ১৯৭৫ সালে।”

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একদল ষড়যন্ত্রকারী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। গণহত্যায় বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনও নিহত হন।

অন্যদিকে, কারাগারে নির্যাতিত হয়ে ১৯৭৪ সালের ১৩ মার্চ মারা যান মিশেল ব্যাচলেটের বাবা আলবের্তো আর্তুরো মিগেল ব্যাচলেট মার্তিনেজ। 

বাংলাদেশে তার চার দিনের সফরে ব্যাচেলেট বুধবার (১৭ আগস্ট) চার মন্ত্রী, সুশীল সমাজের সদস্য এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক ছাড়াও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

বাংলাদেশে তার প্রথম সফরের সময়টিতেই দেশবাসী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে।

দুই মেয়াদে চিলির প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সাল থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন মিশেল ব্যাচেলেট।

মানবাধিকার ইস্যুতে চিলির সরকারপ্রধান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ঢাকার সঙ্গে বিনিময়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে নিজের বাবার হারানোর প্রসঙ্গ টানেন মিশেল ব্যাচলেট।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মিশেল ব্যাশেলের পর্যবেক্ষণের বিপরীতে মন্ত্রীদের বক্তব্য আসার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সরকার তাদেরটা বলবে। সরকারের হয়ে কথা বলার আমি কেউ না। তবে আমি বলছি স্বীকার করার গুরুত্বের কথা। এটাকে তুলে ধরা, তদন্ত করা এবং আমি তাদের সাথে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি।”

নিজের দেশে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমিও আমার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি, কীভাবে আমি ঘটনাগুলোকে দেখেছি। আমি যখন যেকোনো ধরনের অভিযোগ পেয়েছি, আমি জানার চেষ্টা করেছি এটা সত্য কিনা? আমি যদি জানি, এটা ঘটেছে, তাহলে কিছু করতে পারব।”

তিনি বলেন, ”যদি অভিযোগ সত্য না হয়, যদি কিছু না ঘটে, তাহলে সেটাই। সব ঠিকঠাক। যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা কীভাবে প্রতিকার করব, পদক্ষেপ নিব। এ ধরনের আলোচনায় আমাদের হয়েছে।”

About

Popular Links