Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকার ছবি ফেসবুকে দেওয়ায় তাকে এ শাস্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার ফোনটিও কেড়ে নেন প্রধান শিক্ষিকা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ১২:১৪ এএম

রাজশাহীর পবার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকার ছবি ফেসবুকে দেওয়ায় তাকে এ শাস্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার ফোনটিও কেড়ে নেন প্রধান শিক্ষিকা।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসি গতকাল বুধবার সকালে তার কার্যালয়ে ওই শিক্ষিকাকে ডেকে পাঠান। এ সময় প্রধান শিক্ষিকার স্বামীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ছাড়া সেখানে বিদ্যালয়টির জমিদাতাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষিকা ওই শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করান।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। আগামী রবিবার প্রতিবেদন দাখিল করবেন তিনি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওই শিক্ষিকা অন্য এক নারীর দেহের সঙ্গে আমার মুখমণ্ডল লাগিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। ভিডিওতে মেয়েটিকে নাচতে দেখা যাচ্ছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে একজন পুরুষ মানুষ কথা বলছেন। ভিডিওটি সহকারী শিক্ষিকা তার নিজের ফেসবুকের স্টোরিতে দিয়েছেন।”

কান ধরে ওঠবস করানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি কান ধরে ওঠবস করাননি। সহকারী শিক্ষিকা যে অপরাধ করেছেন, তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আওতায় পড়ে। মামলা থেকে বাঁচার জন্য এখন মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছেন।

মামলা কেন করেননি জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা জানান, মেয়েটির স্বামী মারা গেছে। তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে তিনি মামলা করেননি।

ওই সহকারী শিক্ষিকা বলেন, তিনি প্রধান শিক্ষিকার মাথা জোড়া লাগিয়ে কোনো ভিডিও দেননি। তিনি প্রধান শিক্ষিকার বান্ধবীর সঙ্গে তোলা সুন্দর, ভদ্র একটি ছবি ফেসবুক স্টোরিতে দিয়েছিলেন। ওই ছবি প্রধান শিক্ষিকা নিজেই হোয়াটস অ্যাপে তাঁকে দিয়েছিলেন।

ওই সহকারী শিক্ষিকা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি প্রধান শিক্ষিকার মাথা জোড়া লাগিয়ে কোনো ভিডিও দেননি। তিনি প্রধান শিক্ষিকার বান্ধবীর সঙ্গে তোলা সুন্দর, ভদ্র একটি ছবি ফেসবুক স্টোরিতে দিয়েছিলেন। ওই ছবি প্রধান শিক্ষিকা নিজেই হোয়াটস অ্যাপে তাকে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “সে সময় প্রধান শিক্ষিকা তিন দিনের ছুটিতে ছিলেন। রবিবার তিনি বিদ্যালয়ে এলে একজন শিক্ষিকা ছবি দেওয়ার বিষয়টি বলে দেন। সেদিনই প্রধান শিক্ষিকা আমার ফোনটি কেড়ে নেন। এখনো ফেরত দেননি। ছবি দেওয়ার অপরাধে গতকাল আমাকে কান ধরে ওঠবস করান। আমাকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

About

Popular Links