Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে’

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং চীন কীভাবে বাংলাদেশকে তাদের বৈদেশিক নীতির লক্ষ্যগুলোতে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে সে বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২২, ০৯:১৯ এএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা ট্রিবিউনের প্রবীর কুমার সরকার। তাদের এই বিশেষ আলাপচারিতা পাঁচটি পর্বে প্রকাশিত হবে। আজ পড়ুন চতুর্থ পর্ব-

আজকের পর্বে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং চীন কীভাবে বাংলাদেশকে তাদের বৈদেশিক নীতির লক্ষ্যগুলোতে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে সে বিষয়ে কথা বলেছেন।

ঢাকা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে “কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়” পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

লি জিমিং: বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়” এই পররাষ্ট্রনীতির চর্চা করে আসছে। চীন এটির খুব প্রশংসা করে। তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের কোনো আপত্তি নেই। চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং সেটি গভীরতর করবে, তবে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অন্য দেশকে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না।

ঢাকা ট্রিবিউন: অন্যান্য জোটের মধ্যে কোয়াড এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর প্রসপারটিতে (আইপিইএফ) বাংলাদেশকে যোগদানের বিষয়ে বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগ কী বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বে ব্যাঘাত ঘটাবে?

লি জিমিং: আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোয়াড ইস্যুতে কথা বলেছি, আমি বিশ্বাস করি এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানাতে সেটি যথেষ্ট পরিষ্কার ছিল। তবে এখানে আমি আইপিইএফ সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে চাই-

গত কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক আকর্ষণের কেন্দ্র দ্রুত এশিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এশিয়া বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অঞ্চল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীন ও বাংলাদেশের মতো এশীয় দেশগুলোর উত্থান এই প্রক্রিয়ায় বিরাট অবদান রাখছে। এশিয়া এখন পর্যন্ত যে সাফল্য অর্জন করেছে তা বিচ্ছিন্নভাবে কাজের পরিবর্তে একীকরণের প্রতি অঙ্গীকারের ফল।

তবে কিছু দেশ আইপিইএফ চালু করে এই অঞ্চলে ছোট বৃত্ত তৈরির কূটনীতির চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের মতে, আইপিইএফ "স্বভাবতই রাজনৈতিক" কারণে এটি থেকে চীনকে বাদ দিয়েছে। আইপিইএফ বিষয়ে বিবেচনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি, সেগুলো হলো-

প্রথমত, আইপিইএফ বিশদভাবে পর্যালোচনা করলে এটি দেখা যায় যে, আইপিইএফের চারটি স্তম্ভের মধ্যে শুল্ক হ্রাস এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়ে জোরালো কিছু নেই। বাজারের প্রবেশাধিকার ছাড়াই একটি অর্থনৈতিক কাঠামো বাংলাদেশের মতো এশিয়ান দেশগুলোর জন্য বাস্তবতা বিবর্জিত, কারণ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য এখনও অনেক বেশি প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, আইপিইএফ-এর নেতৃস্থানীয় দেশ দাবি করে যে তারা "সমমনা" দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চায়। " সমমনা" শব্দটি কিন্তু একটু সতর্কতামূলক, কারণ এটি অর্থনীতির চেয়ে আদর্শের ওপর বেশি জোর দেয়। যদি বাংলাদেশ একটি পক্ষ নিতে বাধ্য হয় তাহলে কিছু স্থানীয় পর্যবেক্ষক বিরক্তবোধ করতে পারেন, কারণ এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের চর্চিত  "সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে শত্রুতা নয় " নীতির বিরোধী।

তৃতীয়ত, চীন বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের একটি অনিবার্য অংশ যা বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি বাস্তবধর্মী। চীনকে এড়িয়ে গেলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে হয়তো সমস্যা সৃষ্টি হবে না। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়-ইউক্রেনের দ্বন্দ্ব এবং যুদ্ধের কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ইস্যুতে ভূ-রাজনীতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে সেটি বাংলাদেশের আরও ক্ষতি করবে বলে ব্যাপক শঙ্কা রয়েছে।


এই সাক্ষাৎকারের প্রথম তিনটি পর্ব পড়ুন: 


ঢাকা ট্রিবিউন: রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ চীনকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

লি জিমিং: রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে এবং সবসময় বলে আসছে যে সমস্যাটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিত।

শান্তি এবং স্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমরা বাংলাদেশ এবং মিয়াননমার উভয়কেই সমর্থন দিয়ে আসছি।

গত বছরের শুরুর দিকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা একসময় স্থগিত হয়ে যায়।

তবে, সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনেছে। এ বছরের জুনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আমরা সকল সমমনা দেশকে এই কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই। রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান খোঁজার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

About

Popular Links