Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক স্থাপনা আলেক্সান্দ্রা ক্যাসলের ইতিহাস

বিভিন্ন সময় এই ঐতিহাসিক বাড়িটিতে থেকেছেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরা। এর নির্মাণ ও ইতিহাস থাকছে এই লেখায়

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩৬ পিএম

ময়মনসিংহ শহরে দাঁড়িয়ে আছে এক দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক স্থাপনা, যার নাম আলেক্সান্দ্রা ক্যাসল বা লোহার কুঠি। মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী এই বিলাসবহুল স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিলেন। ঘরটিতে বিভিন্ন সময়ে থেকেছেন মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিরা।

বলা হচ্ছে, ১৩২ বছর আগে নির্মিত আলেকজান্ডার বা আলেক্সান্দ্রা ক্যাসল নির্মাণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোহার ব্যবহার থাকায় স্থানীয়ভাবে এটিকে বলা হয় লোহার কুঠি। ১৮৮৯ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিদিন অসংখ্য স্থানীয় মানুষ এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আসেন। দূরদূরান্ত থেকে ময়মনসিংহে আসা লোকজনও সুযোগ পেলে এ প্রাসাদ দেখতে যান। লোহা ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা প্রাসাদটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, ১৭৮৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলার শতবর্ষ উৎসব পালনের জন্য ১৮৮৯ সালে এটি নির্মিত হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের পত্নী আলেক্সান্দ্রার নামে এটি নির্মাণ করা হয়। মতান্তরে তৎকালীন ইংরেজ কালেক্টর আলেকজান্ডারের নামে এটি নির্মাণ করা হয়।


আরও পড়ুন- ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ‘আলেক্সান্দ্রা ক্যাসল’ নিয়ে জটিলতা


সে সময় এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৪৫ হাজার টাকা। প্রাসাদটি নানা রকম আসবাবে সুসজ্জিত করা হয়। দ্বিতল এ প্রাসাদের নিচতলা বর্তমানে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গ্রন্থাগার।

প্রাসাদটি তখন মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর বাগানবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পাশাপাশি বিদেশি অতিথিরা ময়মনসিংহে এলে এখানে থাকতেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পরেও এখানে বিভিন্ন সময় সম্ভ্রান্ত অতিথিরা থেকেছেন। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহে এলে চার রাত এ লোহার কুঠিতে থাকেন। একই বছর আসেন মহাত্মা গান্ধী। এছাড়া লর্ড কার্জন, চিত্তরঞ্জন দাস, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা, মৌলভি ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এ লোহার কুঠিতে থেকেছেন বলে ইতিহাস থেকে জানা গেছে।

ঐতিহ্যবাহী এ ভবনে বিভিন্ন সময় পদচারণা হয়েছে অবিভক্ত ভারতবর্ষের বহু প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের /ঢাকা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহের প্রত্নতত্ত্ব গবেষক ও লেখক স্বপন ধর ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘মিয়ানমার থেকে সেগুন কাঠ আনিয়ে চীনা কারিগরদের দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ভারত থেকে অভ্র এনে প্রাসাদটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়।”

সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দেয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক ঢাকা বলেন, ‘‘ময়মনসিংহের সব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংস্কার ও সংরক্ষণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার আলেক্সান্দ্রা ক্যাসলের উন্নয়নের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্কুলের যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তার অবসান হয়েছে। এখানে আর কোনো দেয়াল নির্মাণ হচ্ছে না।”

About

Popular Links