Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে আরও ট্রানজিট দেবে ভারত

নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির জন্য ভারত বাংলাদেশকে বিনামূল্যে ট্রানজিট দিয়ে আসছে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৪৪ পিএম

ভারত সে দেশের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে বিনামূল্যে ট্রানজিটের প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে ভারত তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য তাদের বন্দর অবকাঠামো ব্যবহার করার জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ভারত এ কথা জানায়।

বুধবার এক যৌ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির জন্য ভারত বাংলাদেশকে বিনামূল্যে ট্রানজিট প্রদান করছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সদ্য উদ্বোধন হওয়া চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটের মাধ্যমে ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারত এ বিষয়ক কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে অনুরোধটি বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকল চুক্তির প্রাথমিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক ও উপ-আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করার প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে সম্মত হন।

এছাড়া, ভারত পশ্চিমবঙ্গের হিলি থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মেঘালয়ের মহেন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত একটি মহাসড়কসহ নতুন উপ-আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প শুরু করতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশেকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং এই বিষয়ে একটি বিশদ প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।

একইভাবে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে প্রকল্পের চলমান উদ্যোগে অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশ তার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক এবং উপ-আঞ্চলিক রেল, সড়ক এবং অন্যান্য সংযোগ উদ্যোগ বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

উভয় পক্ষই টঙ্গী-আখাউড়া লাইনের ডুয়েল-গেজে রূপান্তর, রেলওয়ে রোলিং স্টক সরবরাহ, বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মীদের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নত পরিষেবার জন্য আইটি সহযোগিতাসহ চলমান দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

এছাড়া, কাউনিয়া-লালমনিরহাট-মোগলঘাট-নতুন গীতালদহ সংযোগ, হিলি ও বিরামপুরের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন, বেনাপোল-যশোর লাইন বরাবর ট্র্যাক এবং সিগন্যালিং সিস্টেম এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলির উন্নীতকরণ, বুড়িমারী এবং বুড়িমারীর মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন, চ্যাংরাবান্ধা, সিরাজগঞ্জে কনটেইনার ডিপো নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান দুই নেতা। 

দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতার অধীনে বিভিন্ন আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

ভারতের পক্ষ থেকে ২০টি ব্রড-গেজ ডিজেল লোকোমোটিভ দেওয়ার উদ্যোগকেও স্বাগতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের  (এসিএমপি) চুক্তির অধীনে ট্রায়াল রানের সফল সমাপ্তিকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয় দেশের এক্সিম কার্গো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ২০১৫ সালের দ্বিপাক্ষিক উপকূলীয় শিপিং চুক্তির সম্প্রসারণে কাজ করার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত।

উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে সরাসরি শিপিং সংযোগ দ্রুত চালু করতে সম্মত হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন ও বাণিজ্য (পিআইডব্লিউটিটি) ৫ এবং ৬ (ধুলিয়ান থেকে রাজশাহী-আরিচা পর্যন্ত সম্প্রসারণ), ৯ এবং ১০ (দাউদকান্দি থেকে সোনামুড়া) রুটে প্রোটোকলের অধীনে নদী পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।

এছাড়া, ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্তকারী ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু চালু করার জন্য অবশিষ্ট অবকাঠামো, অভিবাসন এবং শুল্ক সুবিধা দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় পক্ষ বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লিতে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফর শেষে ৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন তিনি।

About

Popular Links