Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি: যা জানা প্রয়োজন

ইউজিসি সূত্র বলছে, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২৫ পিএম

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্প্রতি দেশের ৪১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠন করে নিজেদের বহু বছরের ঐতিহ্য ভেঙে বিতর্কের মুখে পড়েছে।

সাম্প্রতিক ঘোষণার পর ছাত্রলীগের কমিটি রয়েছে এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি) অন্যতম। গত ৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা করে সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত আইনে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো উল্লেখ নেই এবং এর আগে কখনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র শাখার সরাসরি উপস্থিতি না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বলা হতো। ছাত্র রাজনৈতিক কমিটি গঠনের ফলে ক্যাম্পাসের এই নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), এআইইউবি, এনএসইউ এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তার ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে বলছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্দলীয় থাকার চেষ্টা করে বলে ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হবে।

যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কমিটি গঠন তাদের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ক্যাম্পাসে অনুমতি দেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং কর্তৃপক্ষ নেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা বিশ্বাস করি যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নীতি, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুযায়ী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র নিশ্চিত করেছে যে,  বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই।

শুরুতে সমালোচনা ছিল না 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, প্রায় ১০ বছর আগে যখন প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন এটা নিয়ে খুব একটা সমালোচিত হয়নি।

তিনি বলেন,“আমরা ২০১২ সালের অক্টোবরে সমন্বিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ গঠন করেছিলাম এবং তখন তা তেমন সমালোচনার মুখে পড়েনি। সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি ঘোষণা করার পর সমালোচনা বেড়েছে।”

তার মতে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর উপস্থিতি ইসলামী ছাত্র শিবির এবং হিযবুত তাহরীরের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে প্রতিহত করতে সাহায্য করতে পারে।

জয়দেব নন্দী আরও বলেন, “আমি মনে করি শুধু ছাত্রলীগ নয়, গোপন জঙ্গি শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়নের মতো অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করা উচিত।“

সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার মতে, সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ একটি পৃথক সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে সমস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় গঠিত হয়েছিল, একইভাবে দেশের আইন ও মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্রলীগের এরকম স্বতন্ত্র ইউনিট রয়েছে।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, “আমি মনে করি ক্যাম্পাসের মধ্যে রাজনীতি অপরিহার্য কারণ এটি আমাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতির অভাব স্বৈরাচারী এবং অগণতান্ত্রিক করে তোলে, যা স্বাস্থ্যকর নয়।”

তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালযয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিবৃতির সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর কোথাও ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আল-আমিন রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, “রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই প্রথম আমরা বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এখন সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি আলাদা জেলা ইউনিটের মর্যাদা পাবে এবং সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি থানা কমিটির মর্যাদা পাবে।”

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তবে মন্ত্রিসভার সদস্য ও ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা কমিটি গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু হলে কিছু অসুবিধা হতে পারে। এই মুহুর্তে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র পড়ালেখা করছে এবং সেটি শেষ করার পরে তারা তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে মনোযোগী। কোনো সেশনজট ছাড়াই সিস্টেমটি মসৃণভাবে চলছে, তবে ছাত্র রাজনীতি ঢুকলে সেটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।"

About

Popular Links